Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ১৬:৩৭
আপডেট :
নিচতলায় বাসা ভাড়া নেয়ার নীতিতে জেএমবি!
মুহাম্মদ সেলিম, চট্টগ্রাম
নিচতলায় বাসা ভাড়া নেয়ার নীতিতে জেএমবি!

বাসা ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনা মেনে চলতে জেএমবি’র সদস্যদের কিছু নির্দেশনা রয়েছে! নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে ভাড়া নেয়ার ক্ষেত্রে ভবনের নিচতলাকে অগ্রাধিকার দেয়া এবং একমুখী রাস্তাও বিবেচনায় রেখে বাসা নেয়া। চট্টগ্রামের বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া জেএমবি সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য মিলেছে। এ তথ্য পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন। তাদের এ কৌশল ঠেকাতে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপারেশন ও ক্রাইম) দেবদাস ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘নগরীর বাড়ি মালিকদের বাসা ভাড়া দেয়ার ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়ার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে বাসা ভাড়া দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভাড়াটিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নাম্বারও সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। ’

চট্টগ্রাম জেলা বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ বলেন, ‘বাসা ভাড়া নিয়ে যাতে জঙ্গিরা আস্তানা তৈরি করতে না পারে এ জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে কিছু নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বাড়ি মালিকদের। দেশের স্বার্থে এসব নির্দেশনা পালন করতে বাড়ি মালিকদের অনুরোধ করা হয়েছে। ’

জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নিয়মিত অংশ নেওয়া চট্টগ্রামে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তর সাথে কথা বলে যায় যায়, বিভিন্ন অভিযানে জেএমবি’র আস্তানা থেকে বিভিন্ন ধরনের কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। ওই সব কাগজপত্রে উর্ধ্বতন পর্যায় থেকে জেএমবি নিচের সারির সদস্যদের জন্য কিছু নির্দেশনা রয়েছে । এসব নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে- কি করা যাবে, কি কাজ করা যাবে না। এসব নির্দেশনার মধ্যে বাসা ভাড়া নেওয়ার কিছু নির্দেশনা রয়েছে। এ নির্দেশনায় রয়েছে সব সময় নিচতলা ও একমুখী রাস্তা দেখে বাসা নেওয়ার। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা- নিচ তলায় একমুখী রাস্তা দেখে বাসা ভাড়া নিলে লড়াই করে সরে পড়া যাবে। জেএমবির জঙ্গিরা যে এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়, আগেই তার আশপাশের লোকজনের সঙ্গে টুকটাক কথাবার্তা বলে এলাকার বিষয়ে ধারণা নেয়। তারা কখনো প্রতিবেশিদের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক তৈরি করে না। জেএমবির আস্তানায় পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানগুলোতেও এসব তথ্যের সত্যতা মিলেছে।  

২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর নগরীর কর্ণফুলী থানার খোয়াজনগর এলাকার একটি ভবনের নিচ তলায় জেএমবি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে গ্রেনেড, গুলি ও অস্ত্র উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর হাটহাজারী থানার ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড আমানবাজার এলাকায় জেএমবির আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। আমানবাজারের জয়নব কমিউনিটি সেন্টারের পেছনে হাজি ইসহাক ম্যানশনের নিচতলা ভাড়া নিয়ে আস্তানা বানিয়ে ছিলেন জেএমবি’র সামরিক কমান্ডার ফারদিন। সম্প্রতি শোলাকিয়ায় হামলাকারী জেএমবির জঙ্গিরা ১ জুলাই থেকেই কিশোরগঞ্জে অবস্থান করছিল। তারা কিশোরগঞ্জ সদরের নীলগঞ্জ রোডে ‘পরশমণি’ নামের একটি তিনতলা বাড়ির নিচতলার দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিল। শুধু তাই নয়; গুলশানে হামলার জঙ্গি নিবরাস ইসলাম পরিচয় গোপন করে সাঈদ নামে ঝিনাইদহ শহরে যে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন, সেটিও একতলা ঘর। এছাড়া দেশের অন্যান্য জায়গা আবিষ্কার করা জেএমবি’র আস্তানাগুলোর বেশির ভাগই ছিল নিচতলা কিংবা একতলা ঘর।  

 


বিডি-প্রতিদিন/ ১৮ জুলাই, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow