Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৬ ২০:০৮
আপডেট :
ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের অবরোধে অচল চবি
দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের অবরোধে অচল চবি

ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিতদের আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমিটিতে পদবঞ্চিতদের অবরোধের কারণে চলাচল করেনি শাটল ও ডেমু ট্রেন। অনুষ্ঠিত হয়নি কোনো ক্লাস-পরীক্ষা। ফলে অচল হয়ে পড়েছে চবি। তবে শিক্ষক বাসগুলো চলাচল করছে।  

এদিকে, গতকাল বুধবার গভীর রাতে চবি ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদবঞ্চিত ও পদ পাওয়া নেতাদের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষই গুলি ছোঁড়ে। এতে তিনজন গুরুতর আহত হন।

অবরোধকারীদের মধ্যে নগরে অবস্থান করছেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী এবং ক্যাম্পাসে অবস্থান করছেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী।    

আন্দোলনকারীরা বলছেন, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ থেকে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। আমাদের দাবি ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়ন করা হোক।

চবির সহকারী প্রক্টর হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে কমিটিকেন্দ্রিক সমস্যা চলছে। ট্রেন না চলায় শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কম। তাই ক্লাস ও পরিক্ষা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। তাছাড়া সৃষ্ট ঘটনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর আছে।

ষোলশহর রেল স্টেশন মাস্টার সাহাব উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগের অবরোধের কারণে গত বুধবার সকাল থেকে ট্রেন চলাচল বন্ধ। গতকাল বৃহস্পতিবারও কোনো ট্রেন চলাচল করেনি। শাটল ট্রেন চালানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।  

চবি সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর প্রথম গত বুধবার রাত ১২টায় ক্যাম্পাসে যান ছাত্রলীগ চবি শাখার সভাপতি আলমগীর টিপু। চবির গোল চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে শাহজালাল হলে যান কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতারাসহ। এসময় পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা চবির সোহরাওয়ার্দী হল এলাকায় অবস্থান নেন। পরে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় জড়িয়ে পড়েন দুই পক্ষ। রাত দেড়টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৩৫টির মতো গুলিবিনিময় হয়। এতে তিনজন আহত হন। তাদের চবির চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।

চবির পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে গুলিছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। প্রথমে পুলিশ কম থাকায় আমরা ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছি। পরে বাইরে থেকে পুলিশ সদস্যরা আসার পর আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।  

প্রসঙ্গত, গত সোমবার চবি ছাত্রলীগের ২০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে পদ বঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়ার অভিযোগে গত সোমবার দুপুরে চবির মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো গতকালও তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।
 


বিডি-প্রতিদিন/ ২১ জুলাই, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow