Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৩:৪১
ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে সদরঘাটে
অনলাইন ডেস্ক
ঘরমুখী মানুষের ভিড় বাড়ছে সদরঘাটে

ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ঘরমুখী মানুষের চাপ বেড়েছে আজ রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। যাত্রীদের কিছু সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, কিন্তু সব মোকাবেলা করে সমস্যা মেনে নিয়েই লঞ্চে চাপছেন যাত্রীরা। তবে সমস্যা সমাধানের জন্য সদা প্রস্তুত দায়িত্বশীলরাও। বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়।

ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হবে। এর আগে শুক্র-শনি সাপ্তাহিক ছুটি। সরকারি কর্মকর্তাদের অধিকাংশই অর্ধেক অফিস করে পরিবার-পরিজন নিয়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন বৃহস্পতিবার থেকেই। দুপুরের পর থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের চিত্র বদলাতে থাকে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যলয় থেকে লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত যেন পা ফেলার ঠাঁই ছিলো না।

রোকজানা পারভিন (২৬) বেসরকারি চাকরিজীবী। গ্রামের বাড়ি বরিশাল। স্বামী-সন্তান নিয়ে লঞ্চে করেই যাবেন। তাই টিকিট নিয়ে উঠেছেন পারাবাত-১০ এ। কেবিন না পেয়ে ডেকের টিকিট নিয়েছেন। এ জন্য টিকিট বয়কে বেশি কিছু টাকাও দিতে হয়েছে তাকে।

তানভির আহসান (৩৬) যাবেন পটুয়াখালী। উঠেছেন এমভি আওলাদ-৭ এ। বিকেল সাড়ে ৫টায় লঞ্চে উঠে দেখেন বসার মতো কোনো জায়গা নেই। তবে বাড়ি যেতেই হবে। সরকারি এ কর্মকর্তা যেকোনো মূল্যে বাড়ি যাবেনই। যদি দাঁড়িয়েও যেতে হয় তবুও তিনি পরিবার পরিজন নিয়ে যাবেন বলে মনস্থির করেই রওয়ানা দিচ্ছেন।

অপরদিকে অগ্রিম কেবিন বুকিং দিয়েও অনেক যাত্রী কেবিন না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার মধ্যে লালকুঠির ঘাটে চাঁদপুরগামী যাত্রী আরিফা (২৭)। তিনি জানান, ঈদের অগ্রিম টিকিট বুকিং ঘোষণা করার পর তিনি কেবিনের টিকিট নেন। কিন্তু এসে দেখেন তার বুকিং দেওয়া টিকিট অন্যজনের হাতে। ফলে লঞ্চের ডেকে বসে চাঁদপুর যাওয়া ছাড়া তার অন্য কোনো উপায় নেই।

কেবিন বুকিং দেওয়ার পরেও যাত্রীরা তাদের কেবিন পাচ্ছেন না- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ যাত্রী সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা গোলাম কিবরিয়া টিপু বলেন, 'যাত্রীদের এমন অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তবে কেউ যদি কেবিন বুকিং দিয়েই থাকেন তাহলে তিনি অবশ্যই কেবিন পাবেন। আর তিনি যদি কেবিন না পান তাহলে অন্য কোনো কেবিন তাকে দেওয়া হবে'।

সদরঘাট নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদিন বলেন, 'যাত্রীরা যেকোনো অভিযোগ দিলে সেটি সঙ্গে সঙ্গে সমাধান করে দেওয়া হচ্ছে। আর পর্যাপ্ত যাত্রী হলেই সেই লঞ্চকে ঘাট ছাড়তে হবে। নয়তো তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে এবার কোনো প্রশ্ন উঠবে না'।

যাত্রীদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয় সেজন্য বিকেল ৪টায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরিদর্শন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক শহিদুল হক। এসময় তিনি সুন্দরবন-৭ লঞ্চে প্রবেশ করেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কথা বলেন।

বিডি-প্রতিদিন/তাফসীর

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow