Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৪৩
ট্যাম্পাকো ট্র্যাজেডি; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯
আফজাল হোসেন,টঙ্গী
ট্যাম্পাকো ট্র্যাজেডি; নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯

 

 

 

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্প এলাকার ট্যাম্পাকো ফয়েলস এন্ড প্যাকেজিং কারখানায় ঘটে যাওয়া  ভয়াবহ অগ্নি দূর্ঘটনায় ধ্বসংস্তূপ ভবনে লাশের সন্ধানে উদ্ধার কর্মীরা। ১৫দিন পর গতকাল সোমবার দুপুরে আরো তিনজনের পোড়া দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে।

এনিয়ে মৃত্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৯জন।

উদ্ধারকৃত তিনজনের মধ্যে একজনের  পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারি থানার বাহির নগর গ্রামের মোজাম মোল্লার ছেলে মো.চন্নু  মোল্লা। দেহাবশেষটি উদ্ধারের সময় একটি মানিব্যাগ পাওয়া যায়। ওই মানিব্যাগে রক্ষিত ইউসিবি ব্যাংকের একটি ভিসা কার্ড থেকে তার পরিচয় সনাক্ত করা হয়। অপর দুই মরদেহের স্বজনরা লাশ দেখে কিছু অংশ বুঝতে পেরে দাবি করেন এর মধ্যে একজন হলো আনিসুর রহমান আরেকজন হলো নাছির পাটোয়ারী। উল্লেখিত চন্নু মোল্লা নাছির পাটোয়ারী ও আনিসুর রহমান এই তিনজন একই মেশিনে কাজ করতেন এবং একই স্থান থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সেই সুত্রে ধরেই স্বজনদের দাবি। মরদেহ উদ্ধারের পর টঙ্গী থানা পুলিশ সুরতহাল রির্পোট তৈরী করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা এ্যাম্বুলেন্স করে ঢামেক হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যান। গতকাল বৈরিআবহাওয়ার মধ্যেও কাজ করছেন সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা। দিন যতই যাচ্ছে লাশের সংখ্যা ততই বাড়ছে। এদিকে টাম্পাকো কারখানায় ভয়াবহ অগ্নি দূর্ঘটনার পর পর  বিসিক অচলাবস্থা হয়ে পড়েছে। কারন বিসেকে ঢুকার মেইন সড়কটি বন্ধ করে দেওয়ার ফলে কারখানা শ্রমিক কর্মচারী এমনকি মালবাহি গাড়ি চলাচল করতে না পেরে অনেকটাই অচলাবস্থা।

বিসিক গার্মেন্টস মালিকরা বলেন, 'বিসিকের মেইন সড়কটি বন্ধ করে দেয়ায় আমাদের চলাচলে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বর্তমানে কারখানার মালবাহী গাড়ী মধুমিতা সড়ক দিয়ে চলাচলের কারনে যানজট  লেগেই থাকে।   ফলে মধুমিতা থেকে বিসিক পৌছতে সময় লাগে এক থেকে দেড় ঘন্টা। এতে ব্যবসায়ীদের মাল আনা নেওয়া করতে চরম অসুবিধা হচ্ছে। তাছাড়া এই ঘটনার খবরে বিদেশী ক্রেতারা বিসিকে প্রবেশ করছে না। এরকম চলতে থাকলে আমাদের ব্যবসার জন্য অনেক সমস্যা হয়ে যাবে'।

স্থানীয় এক কাউন্সিলর আবুল হোসেন বলেন, 'ঘটনার পর পর টাম্পাকো কারখানার পূর্ব পাশ দিয়ে বিসেকে ঢুকার মেইন সড়ক এবং পশ্চিম পাশের সড়কটি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। ফলে বিসিক ব্যবসায়ীরা ও মালবাহীগাড়ি মধুমিতা সড়কটি ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায়ই সময় জানযট লেগে থাকে। এতে দুর্ভাগের শিকার হয় এলাকাবাসী'।

ভয়াবহ এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসন,তিতাস গ্যাস,ফায়ার সার্ভিস,স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ,শিল্প মন্ত্রনালয়সহ বেশ কয়েকটি সংস্থার পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন সদস্য বিশিষ্ট তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত বৃহস্পতিবার সেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে জনসংযোগ পরিদপ্তরের(আইএসপিআর)পরিচালক লে. কর্ণেল মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান বলেন, 'গতকাল সোমবার দুপুরে বর্জ্য সরানোর সময় ধ্বংসস্তুপের মাঝ এলাকা থেকে আরো তিন শ্রমিকের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল পর্যন্ত প্রায় ১১হাজার টন বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে'।


বিডি-প্রতিদিন/২৬ সেপ্টেম্বর,২০১৬/তাফসীর

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow