Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:০৮
ডিজিটাল হাজিরায় ক্ষুদ্ধ রাবি শিক্ষকরা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ডিজিটাল হাজিরায় ক্ষুদ্ধ রাবি শিক্ষকরা
প্রতীকী ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ১ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে ডিজিটাল অ্যাটেন্ডেন্স মনিটরিং সিস্টেমে। এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে শিক্ষক সমিতি এবং প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের নের্তৃবৃন্দ।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত চিঠিতে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ডিজিটাল হাজিরার ঘোষণা দেয়া হয়।  ওই চিঠিতে বলা হয়, ২৮ আগস্ট ৪৬৭তম সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ডিজিটাল অ্যাটেন্ডেন্স মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে হাজিরা দিতে হবে।  

এরপর থেকেই নড়েচড়ে বসেন শিক্ষকরা। গতকাল সোমবার শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভায় স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে শিক্ষকদের হাজিরা নেয়ার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। এজন্য উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে শিক্ষক সমিতির নের্তৃবৃন্দ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক খাদেমুল ইসলাম মোল্যা বলেন, শিক্ষকদের বলা হচ্ছে না যে, তাদের প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিভাগে অবস্থান করতে হবে বা ক্লাস নিতে হবে। বলা হয়েছে, শুধু একবার যেকোনো সময় বিভাগে এসে হাজিরা দিয়ে যেতে। এতে তাদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়নি। শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটালাইজেশনে বাধা প্রদান করছেন।  

আইডি কার্ড প্রজেক্টের শুরু নিয়ে তিনি বলেন,  এই প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর ছিলেন অধ্যাপক ড. রকীব আহমদ। তখনই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাজিরার বিষয়টি মাথায় নিয়ে আইডি কার্ডের জন্য শিক্ষার্থীদের থেকে ৪০০ টাকা করে নেয়া শুরু করে বিগত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু ওই টাকা বিবিধ ফান্ডে জমা করে অন্যখাতে খরচ হয়ে যায়। এরপর এ প্রশাসন এসে আবার ওই প্রকল্পের কাজ শুরু করে কোন ধরনের ফান্ড ছাড়াই। আর এখন এসে তিনিই শিক্ষকদের হাজিরা নেয়ার বিষয়ে প্রত্যক্ষ বিরোধিতা করছেন।  

শিক্ষক সমাজের আহ্বায়ক অধ্যাপক রকীব আহমদ বলেন, এ প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম শিক্ষার্থীদের অ্যাটেন্ডেন্সসহ পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ডিজিটালাইজেশনে মধ্যে নিয়ে আসার জন্য। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক এ ডিজিটালাইজেশনে সমর্থন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই প্রশাসন এসে ৭৩’র অ্যাক্ট উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে শিক্ষকদের হাজিরার ব্যবস্থা করছেন।

ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া বাধা দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো.শাহ্ আজম বলেন, আমরাও চাই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম পরিচালিত হোক। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মতো শিক্ষকদের নিয়মিত হাজিরা নেয়া মানে তাদের অসম্মান করা।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, শিক্ষকদেরকে অসম্মান বা নজরদারি করার জন্য এ প্রক্রিয়া চালু করা হচ্ছে না। শিক্ষকরা পুরো বিষয়টি ভালোভাবে না জেনেই এর বিরোধিতা করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক সেবার মান বৃদ্ধির জন্যই করা হয়েছে।  

 

বিডি প্রতিদিন/২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ফারজানা

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow