Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১৩
জাবিতে ইয়াবাসহ আটককৃত সেই ছাত্রলীগ কর্মীকে বাঁচানোর চেষ্টা
শরিফুল ইসলাম সীমান্ত, জাবি:
জাবিতে ইয়াবাসহ আটককৃত সেই ছাত্রলীগ কর্মীকে বাঁচানোর চেষ্টা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক এক ছাত্রলীগ কর্মীকে বাঁচানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে ঘটনার তদন্ত কমিটির শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। গত ২৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ রফিক-জব্বার হলের ৩২০ নম্বার কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র হাসেম রেজাকে আটক করে প্রশাসন।

এ ঘটনার প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে তদন্তে লুকোচুরি করার অভিযোগ উঠেছে।  

অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসেম রেজা লোক প্রশাসন বিভাগে ভালো ফলাফল করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার জন্য ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। প্রথম বর্ষে ধূমপান না করলেও রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে মাদকদ্রব্যে আসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। পর্যায়ক্রমে ইয়াবা নিতে শুরু করেন সুবিধাভোগী এই ছাত্রলীগ কর্মী। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার রুমে তল্লাশি চালিয়ে বেডের নিচ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা ও কিছু গাঁজা উদ্ধার করা হয়।  

এ ঘটনায় হলের আবাসিক শিক্ষক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসানকে আহ্বায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও প্রায় দেড় মাস ধরে গড়িমসি করছে তদন্ত কমিটির শিক্ষকরা।

হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীকে বাঁচানোর জন্য তদন্ত কমিটির প্রধান ফাঁকফোকড় খুঁজে বেড়াচ্ছেন। তাকে বাঁচানোর জন্য আশ্বস্তও করা হয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।  

অভিযুক্ত রেজার বন্ধুরা দাবি করেন, প্রথম দিকে নেশা না করলেও পরবর্তীতে মদ-গাজায় আসক্ত হয়ে উঠে হাসেম।  
অন্যদিকে ছাত্রলীগের একটি অংশ তাকে রক্ষা করার জন্য তদবির শুরু করেছে। আসন্ন ছাত্রলীগের নতুন কমিটির সভাপতি প্রার্থী ও লোক প্রশাসন বিভাগের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে বাঁচানোর জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।  

এদিকে এ ঘটনার শুরু থেকে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী হাসেম রেজা। এ বিষয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তাকে রাজনৈতিক ভাবে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
 
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, “আমরা আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করে জমা দিয়ে দিতে পারবো। বাঁচানোর বিষয়ে তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ছাত্র আমার পরিবারের কেউ না যে কাউকে আমি বাঁচাবো আর কাউকে মারবো। সবাই আমার কাছে সমান। তাই অভিযোগটি ঠিক নয়। আমরা চেষ্টা করছিলাম সঠিক তথ্য গুলো সংগ্রহ করার, তাই একটু দেরি হচ্ছে। ”

 

বিডি প্রতিদিন/০৪ অক্টোবর ২০১৬/এইচ আর

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow