Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:৩১
সরিষা আমদানির নামে
খালি কন্টেইনার আমদানিকারকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
খালি কন্টেইনার আমদানিকারকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার মামলা

সরিষা আমদানির নামে সিঙ্গাপুর থেকে ৪৩টি খালি কনটেইনার আনায় লাকী ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচার মামলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। সরিষা আমদানির নামে অর্থ পাচারের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। একইসাথে চট্টগ্রামের এই প্রতিষ্ঠানটির গত তিন বছরের আমদানি তথ্য পুননিরীক্ষারও উদ্যোগ নিয়েছে কাস্টমস।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে ৪৭২টি চালানের বিপরীতে ৮৭১ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে প্রতষ্ঠানটি। এসব চালানে পণ্য আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার করা হয়েছে কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।  কাস্টমসের কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পণ্য আমদানির আড়ালে এসব চালানের অধীনে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে গত আগস্টে এক হাজার টন সরিষা আমদানির ঘোষণা দিয়ে ৪৩টি খালি কনটেইনার নিয়ে আসে লাকী ট্রেডিং। এতে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা পাচারের বিষয়ে নিশ্চিত হয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার রেজাউল হক বলেন, গত আগস্টের শেষ সপ্তাহে সিঙ্গাপুরের এগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা মূল্যের সরিষা বীজের একটি চালান আমদানি করে প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় চালানটির চারটি কন্টেইনার বেসরকারি ডিপোতে নিয়ে যাওয়ার সময় বন্দর গেটে স্ক্যানিংকালে দেখা যায় কন্টেইনারের ভেতরে পণ্য নেই। পরে বাকি ৩৯টি কন্টেইনার খুলে একই অবস্থায় দেখতে পায় কাস্টমস কর্মকর্তারা। চলতি সপ্তাহে নগরীর বন্দর থানায় মামলা দায়ের হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, মামলা দায়ের করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানিয়েছে, ৪৩টি কনটেইনারের প্রতিটিতে প্রায় সাড়ে ২২ টন করে পণ্য থাকার কথা থাকলেও পাওয়া গেছে মাত্র ১০০ কেজি করে। গত তিন বছরে লাকী ট্রেডিং বিভিন্ন দেশ থেকে ৮৭১ কোটি টাকার (ট্যাক্স ও ভ্যাট ব্যতীত) পণ্য আমদানি করেছে। এর মধ্যে ৩৬টি চালানে ৫৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সরিষা বীজ আমদানি করা হয়।

এদিকে পণ্য আমদানির নামে বিদেশে অর্থ পাচারে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লাকী ট্রেডিং-এর সঙ্গে সিএন্ডএফ প্রতিষ্ঠান এইচকে এন্ড কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড মালিক পক্ষ জড়িত রয়েছে কিনা সে বিষয়টিও যাচাই করে দেখছে কাস্টমস।  

 

বিডি-প্রতিদিন/ ০৮ অক্টোবর, ২০১৬/ আফরোজ  

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow