Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:৩৮ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:১০
বার্ণ ইউনিটে ভর্তি শাহানা কি বৃক্ষ মানবী!
অনলাইন ডেস্ক
বার্ণ ইউনিটে ভর্তি শাহানা কি বৃক্ষ মানবী!

বৃক্ষমানব আবুল বাজনদার ও শিশু রিপন দাস এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) চিকিৎসাধীন। অনেকটা সুস্থতার পথে তারা।

হাতের আঙ্গুলগুলো এখন অনেকটা স্পষ্ট বাজনদারের। তাদের পাশেই নতুন একটি সিট বরাদ্দ হয়েছে শাহানা খাতুন নামে ১০ বছরের একটি মেয়ের জন্য। কয়েকদিন আগে মুখ, থুতুনি ও কানের লতিতে গাছের শিকড়ের মতো কিছু নিয়ে ঢামেকে ভর্তি হয় মেয়েটি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সে বৃক্ষমানবী। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আরও পরীক্ষা-নীরিক্ষা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

মুখে শিশুসুলভ হাসি নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে শাহানা এখন স্বপ্ন দেখছে সুস্থ, সুন্দর, স্বাভাবিক জীবনের। গ্রামের স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ছে সে। নাকে-মুখে শিকড়ের জন্য বন্ধুরা হাসাহাসি করে। অনেক সময় বাজে কথা বলে। শাহানা জানায়, এসব কথা শুনলে তার খারাপ লাগে।

দরিদ্র দিনমজুর বাবার মেয়ে শাহানার মুখের থুতনি, নাক, দুই কানের লতিতে গাছের শিকড়ের মতো কিছু একটা গজিয়েছে। তাতে ব্যথা হয়। চুলকায়। একটু পরপর শাহানা দুই হাত দিয়ে চুলকানোর চেষ্টা করে। নেত্রকোনার শাহানা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি হয়েছে কয়েক দিন আগে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শাহানা এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস বা এ ধরনের কোনো রোগে আক্রান্ত। রোগটি ট্রি-ম্যান (বৃক্ষমানব) সিনড্রোম নামেও পরিচিত। তবে চিকিৎসকরা এখনো নিশ্চিত নন। কারণ শাহানার হাত-পা এখনো গাছের শেকড়ের মতো হয়ে যায়নি। চলছে পরীক্ষা-নীরিক্ষা।

শাহানার শরীরে কালো কালো গোটা হয়েছে। সে জানায়, শুরুতে গোটাগুলো এমনই থাকে, পরে বড় হয়। বার্ন ইউনিটের জাতীয় সমন্বয়কারী চিকিৎসক সামন্ত লাল সেন বলেন, শাহানা যে লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তাকে ঠিক ট্রি-ম্যান বলে মনে হচ্ছে না। তবে ওই জাতীয় কিছু একটা বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এখন যে অবস্থায় আছে, তা অস্ত্রোপচার করে ভালো করা সম্ভব বলেই মনে হচ্ছে।

শাহানার বাবা দিনমজুর শাহজাহান জানান, তার মেয়ের বয়স যখন কয়েক মাস, তখন তার মা লিভারে পানি জমে মারা যান। মা-মরা মেয়ের কথা চিন্তা করে আর বিয়ে করেননি শাহজাহান।

শাহজাহান জানান, জন্মের পর থেকেই শাহানার শরীরে ঘামাচির মতো দেখা দেয়। আস্তে আস্তে তা বড় হতে থাকে। কয়েক মাস ধরে তা শিকড়ের আকার নেয়। এর মধ্যে একটি শিকড় নিজে নিজে ঝরে গেছে। মেয়েকে এক মাস হোমিওপ্যাথির ওষুধ খাইয়েছেন। কাজ হয়নি। ঢাকা থেকে এক নারী সাংবাদিক তার গ্রাম বালুচরায় গিয়ে শাহানার খোঁজ পেয়ে তাকে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করেছেন।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow