Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৪৮ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৯:৫২
'তামাক ব্যবহারজনিত কারণে বছরে ৬০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়'
নিজস্ব প্রতিবেদক:
'তামাক ব্যবহারজনিত কারণে বছরে ৬০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়'
ফাইল ছবি

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, বিশ্বের একশ' কোটি ধুমপায়ীর মধ্যে ৮০ লাখ নিম্ম ও মধ্য আয়ের মানুষ। আর প্রতিবছর সারাবিশ্বে তামাক ব্যবহারজনিত কারণে প্রায় ৬০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়

যার মধ্যে ৫০ লাখ সরাসরি তামাক ব্যবহারের কারণে এবং প্রায় ৬ লাখ পরোক্ষ ধুমপানের কারণে মৃত্যুবরণ করে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে টেবিলে উত্থাপিত নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের (ভোলা-৩) লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বাংলাদেশ সরকার জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে ২০০৩ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। ২০০৫ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০০৬’ প্রণয়ন করে। আইনকে ২০১৩ সালে সংশোধন করা হয় এবং ২০১৫ সালে এর বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রতিনিয়ত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। মোবাইল কোর্টে সাধারণত: পাবলিক প্লেস ও পরিবহনে  ধুমপান; তামাক কোম্পানিগুলোর বেআইনি প্রচারণা, প্রণোদনা ও বিজ্ঞাপন; ১৮ বছরের নিচে কারও কাছে বা কারো দ্বারা তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় প্রভৃতি আইন লঙ্ঘনে জরিমানা করা হয়। ক্ষেত্রে বিশেষে কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।
এশিয়ার সব দেশ জিকা ভাইরাসের ঝুঁকিতে;
মহিলা এমপি বেগম লুৎফা তাহেরের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বর্তমানে এশিয়ার সবকটি দেশই জিকা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে

কিন্তু বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত কোন রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। তথাপি রোগটি নিয়ন্ত্রণে সরকার নানাবিধ উদ্যোগে গ্রহণ করেছে।
এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানান, জিকা একটি ভাইরাসজনিত রোগ। এটি এডিস মশার কামড়ে ছড়ায়। বিশ্বে এ পর্যন্ত মোট ৮৮টি দেশে জিকা ভাইরাস আছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, বার্মাডোজ, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ডোমিনিকা রিপাবলিক, ইকুয়েডর, এলসালভাডর, গুয়েতেমালা, হাইতি, হন্ডুরাস, মেক্সিকো, পানামা, প্যারাগুয়ে, সুরিনাম, সামওয়া, ভেনেজুয়েলা, ইউএস ভার্জিন থাইল্যান্ড জিকা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশে কোন অবস্থাতেই যাতে জিকা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পাওে সে লক্ষ্যে স্থল,নৌ ও বিমান বন্দওে জিকা ভাইরাস সনাক্তকরণের জন্য সার্ভিলেন্স জোরদারকরণের অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
দেশে নতুন ৫৭৮ জন এইডস রোগী সনাক্ত;
এম আবদুল লতিফ (চট্টগ্রাম-১১) এর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে বিগত এক বছরে সরকারি ও বেসরকারি ১২৮টি টেস্টিং সেন্টারের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নতুন ৫৭৮ জন এইডস রোগী সনাক্ত বা সন্ধান হয়েছে। এসময় তিনি আরো জানান, সাধারণ জনগোষ্ঠী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সচেতনা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি ১২টি হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা ও এইচআইভি সনাক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ৪টি সরকারি হাসপাতাল হতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ২৪শয্যাবিশিষ্ট পৃথক ওয়ার্ডের মাধ্যমে এইচআইভি রোগীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
৮ বছরে ১৪ হাজার ৫৭৭ জন চিকিৎসক নিয়োগ;
নাজমুল হক প্রধানের (পঞ্চগড়-১ ) প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী জানান, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তারের স্বল্পতা কমানোর জন্য বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৭৭জন চিকিৎসক নিয়োগ প্রদান করেছে। অবসরজনিত ও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের কারণে ডাক্তারদের বেশ কিছু পদ মাঝে মধ্যেই শুন্য থাকে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এ শুন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে বিসিএস-এর মাধ্যমে আরও ডাক্তার নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ১৮ হাজার ৬৭৫টি শূন্য;
নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নোত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ১৮ হাজার ৬৭৫টি শূন্য রয়েছে। এসময় তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে বর্তমান সরকারের আমলে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোট ৪২হাজার ২৩৬ জনকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মো. রুস্তম আলী ফরাজীর (পিরোজপুর-৩) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন,  দেশের হাসপাতালগুলোতে নার্সদের পদ শুন্য রয়েছে। মঞ্জুরীকৃত মোট পদের সংখ্যা ২৮ হাজার ৬৬৩টি।   বর্তমানে কর্মরত আছে ২৫ হাজার ৭৮৩ জন নার্স। অবশিষ্ট শুন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হবে।
আসছে ‘চিকিৎসা সেবা আইন’
জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে নুতন চিকিৎসা সেবা আইন করছে সরকার। আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম জানান, চিকিৎসা সেবা আইন, ২০১৬ এর খসড়া প্রনয়ণ করা হয়েছে। খসড়ার উপর সব স্টেকহোল্ডারদের  মতামত গ্রহনের জন্য মন্ত্রণালয়ের অয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। উক্ত আইনে ব্যক্তি মালিকানাধীন/বেসরকারি হাসপাতাল/ক্লিনিক/ডায়াগনস্টিক  সেন্টারে সুচিকিৎসা, সেবার মান নিশ্চিত করণ এবং এ আইন অমান্যের কারণে দন্ডের বিধান সংযোজন করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন/২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

up-arrow