Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৬:৪১
আপডেট : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:১৬
বাংলাদেশেই চালু হচ্ছে সম্মিলিত ক্যান্সার প্রতিরোধ কেন্দ্র
অনলাইন প্রতিবেদক
বাংলাদেশেই চালু হচ্ছে সম্মিলিত ক্যান্সার প্রতিরোধ কেন্দ্র

চলতি বছরের মার্চে সম্মিলিত ক্যান্সার প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন করার ঘোষণা দিয়েছে রাজধানীর এ্যাপোলো হসপিটালস। এটি নির্মাণ করা হলে ক্যান্সার নির্ণয় ও প্রতিকারে আর দেশের বাইরে যেতে হবে না ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

'উই ক্যান, আই ক্যান' বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ক্যান্সারের প্রভাব কমানোর উদ্দেশ্যে কর্মসূচির আয়োজন করে রাজধানীর এ্যাপোলো হসপিটালস। সেখানেই ক্যান্সার প্রতিরোধ কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ক তথ্যটি জানানো হয়।    

শনিবার দুপুরে এ্যাপোলো হসপিটাল অডিটরিয়ামে ওই সচেতনতামূলক স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর আগে দিবসটি উপলক্ষ্যে সকালে র্যালি বের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের মেডিক্যাল সার্ভিসেস বিভাগের ডিরেক্টর ডা: প্রসাদ আর মুগলিকার বলেন, ঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে এবং সচেতন হলে ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব। আমাদের এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো মানুষের মাঝে ক্যান্সারের বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেয়া। যাতে তারা এটিকে ভয় না পেয়ে সহজভাবে গ্রহণ করে এবং প্রতিরোধে উদ্যোগী হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য ক্যান্সার প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ। এখন বাংলাদেশেই ব্লাড ক্যান্সার প্রতিরোধের সেরা ব্যবস্থা রয়েছে। আমরা সবার কাছে ক্যান্সারের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে চাই। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার নির্ণয় করলে তা প্রতিরোধ সম্ভব।  

হাসপাতালের রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা: কৈলাশ চন্দ্র মিশ্র বলেন, ক্যান্সার শুধু প্রতিরোধ করা যায় তা নয়, সঙ্গে সঙ্গে ধরা পড়লে এটি পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব। বিশ্বে এরকম অনেক নজির আছে যারা ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠেছেন পরবর্তীতে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। ক্যান্সার অন্য যে কোনো রোগের চেয়ে বেশি বিপদজনক কারণ এটি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ টিস্যুগুলোকে ক্ষতিগ্রস্থ করে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, মতিষ্ককেও আক্রান্ত করে।  

অনুষ্ঠানে একটি প্রেজেন্টেশনে বলা হয় নারী ও পুরুষ উভয়ে কোলন ও ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। আর শুধু মহিলাদের স্তন ক্যান্সার ও পুরুষরা প্রোস্টেট ক্যান্সারের আক্রান্ত  হন। প্রখর রোদ, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর ডায়েট, মেদাক্রান্ত শরীর, ইনফেকশন ও জীবনযাত্রায় কিছু ভুলের কারণে মানুষ বেশি ক্যান্সারের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। বিশ্বে প্রতিবছর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে যেসব ব্যক্তি মারা যান তাদের ২২ ভাগ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ধূমপানের কারণে। ৭০ ভাগ ফুসফুসের ক্যান্সার হয় ধূমপানের কারণে। এছাড়া খাদ্যে ভেজালের কারণে ক্যান্সার হতে পারে। অনুষ্ঠানে ডাক্তাররা  উপস্থিত সবাই পানিতে ফল ভিজিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণে তাতে এটি বিষমুক্ত হয়।

অ্যাডাল্ট হেমাটোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা: আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ বলেন, প্রতি বছর বিশ্বে দেড় কোটি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আমাদের উদ্দেশ্যে ২০২০ সালের মধ্যে এ হার কমিয়ে আনা। এ জন্য সবার সচেতনতা জরুরি। কিছু ক্যান্সার আছে যেগুলো সারানো একেবারেই সম্ভব নয়। কিন্তু কিছু আছে পুরোপুরি সারিয়ে তোলা সম্ভব। যে জন্য আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। ক্যান্সার সম্পর্কে আমাদের বদ্ধমূল ধারণা দূর করতে হবে। ভয় পেয়েই যাতে আগেই মরতে না হয় সে ব্যাপারে কাজ করতে হবে। এজন্য ব্যক্তিগত ও সরকারি পর্যায়ে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।  

নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা: ফজলুল কবীর বলেন, ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা খুবই জরুরি। তাহলে দ্রুত চিকিৎসা সম্ভব। কারণ ছড়িয়ে পড়ার আগে, ক্যান্সার বড় হওয়ার আগেই ব্যবস্থা নেয়া যায়।  

হিস্টোপ্যাথলজি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও কো-অর্ডিনেটর ডা: তারিক আল নাসির বলেন, ব্যক্তিকেই নিজের দেখাশুনার দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তান দেখবে বা অন্য কেউ দেখবে এই আশা করে বসে থাকা যাবে না। এখন বাংলাদেশেই ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্ভব। কোনো সমস্যা বোধ করলে অন্য কারও কাছে না গিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নিন। ব্যক্তিকেই নিজের সমস্যা সমাধানের ভার নিতে হবে। ব্যক্তি সচেতন হলে ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব। শরীরের কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নিন। অবহেলা করবেন না।  

প্রশ্নোত্তর পর্বে কীভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যায় জানতে চাইলে চিকিৎসকরা জানান, ক্যান্সার নির্ণয় করার কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি আবিস্কার হয়নি। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। প্রতিবছর এক বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ভালো। এছাড়া নিয়মিত শারিরীক চর্চা করতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ করতে হবে, ধূমপান এড়িয়ে যেতে হবে। সর্বোপরি স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে। পরিবারের কারও ক্যান্সার হয়ে থাকলে সেক্ষেত্রে বেশি সচেতন থাকতে হবে।  

অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে আলোচনায় আরও অংশ নেন   চীফ অপারেটিং অফিসার ডা: রত্নদ্বীপ চাসকার, মো. এনায়েত উল্লাহ খান,  ডা: আরিফ মাহমুদসহ অন্যান্য চিকিৎসকরা।  

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী, সাহসের সঙ্গে ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম হয়েছেন এমন ব্যক্তি, সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন কর্পোরেট হাউজের কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানটিতে সহায়তা দেয় রেডিয়েন্ট ফার্মাসিউটিক্যালস এবং মিডিয়ার পার্টনার ছিল বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টিফোর।  

 

বিডি প্রতিদিন/৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow