Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:১৯ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৫:১১
যেভাবে গ্রেফতার হলেন মিরু
অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে গ্রেফতার হলেন মিরু
ফাইল ছবি

গুলিতে সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের মৃত্যুর পরই সিরাজগঞ্জ থেকে পালিয়ে ঢাকা চলে আসেন মূল অভিযুক্ত শাহজাদপুরের পৌর মেয়র হালিমুল হক  মিরু। নানাভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবশেষে নিরাপদ মনে করে শ্যামলীর আদাবরে এক ভাইয়ের বাসায় ওঠেন মিরু।

সেখান থেকেই বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ চালাতে থাকেন। আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এজন্য অধিকাংশ সময় অন্য সিম ব্যবহার করতেন। নিজের ফোনটি সাধারণত বন্ধই রাখতেন। তবে যতটুকু সময় ফোন খোলা রেখেছিলেন তাতেই গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত হয়ে যায় ঢাকার আদাবরে মিরুর অবস্থান সম্পর্কে। তবে সুনির্দিষ্ট বাড়িটি শনাক্ত করতে না পারায় অপেক্ষা করাকেই কৌশল হিসেবে বেছে নেয় পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, মিরুর মোবাইল নম্বর বন্ধ থাকায় বাসাটি শনাক্ত করা সম্ভব ছিল না। তবে তারা নিশ্চিত ছিলেন আদাবরের কোন এক বাসায়ই অবস্থান করছেন মিরু। তাই আদাবর থেকে বের হওয়ার প্রতিটি সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছদ্মবেশে পুলিশের সদস্যরা দাঁড়িয়ে থাকেন।

প্রতিটি দলে এমন একজনকে রাখা হয়েছিল, যিনি মিরুকে ভালোভাবে চেনেন। একইসঙ্গে তার ফোনটি খোলার অপেক্ষায় ছিল পুলিশের আইটি বিভাগ। সড়কে দাঁড়িয়ে ছদ্মবেশে আড্ডা ও চা-নাস্তার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় পার করার পর অবশেষে রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেলে মিরুকে দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। একটি মোটরসাইকেলে করে পল্লবীতে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন সাংবাদিক হত্যা মামলার এ আসামি। রাস্তায় লোক পাঠিয়ে কোন পুলিশ দেখতে না পেয়ে কোনো ছদ্মবেশ ছাড়াই বেরিয়ে পড়েন মিরু। তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি ও সিরাজগঞ্জের জেলা পুলিশের যৌথ দল তাকে গ্রেফতার করে। এ সময় মোটরসাইকেলের চালক ফরিদকেও গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় মোটরসাইকেলটি।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিরু জানান, মোটরসাইকেলে রাজধানীর পল্লবীতে একটি বাসায় যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। ওই বাসায় একজন আইনজীবীর সঙ্গে তার সাক্ষাতের জন্য সময় নির্ধারণ করা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে পূর্বপরিচিত ফরিদের মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন তিনি। ধারণা ছিল স্থানীয় কারও মোটরসাইলে এভাবে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলে কেউ সন্দেহ করবে না।

পুলিশ সুপার মিরাজউদ্দিন আহমেদ জানান, রবিবার রাতে বাসা থেকে বের না হলে মিরুকে ধরা সহজ হতো না। তিনি ভেবেছিলেন, মোটরসাইকেলে রওনা হলে তাকে কেউ সন্দেহ করবে না। গ্রেফতার এড়াতে মিরু মোবাইল ফোনে যোগাযোগ না করে সশরীরে আইনজীবীর কাছে যাচ্ছিলেন।

ঢাকার শ্যামলী এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর রাত ৩টার দিকে মিরুকে সিরাজগঞ্জে নেওয়া হয়।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow