Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:৫৩ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২১:১৩
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান
ব্যাগ ফেলে পালালো ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
ব্যাগ ফেলে পালালো ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা

বরিশালে শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের অর্ধশতাধিক ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। রোগী দেখার সময় বর্হিবিভাগের ডাক্তারদের সামনে ভীড় করার অভিযোগে বুধবার হাসপাতাল পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে ব্যাগগুলো জব্দ করা হয়।

মেডিকেলের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী কল্যান সমিতির সভাপতি মোদাচ্ছের আলী কবির জানান, কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগ দখল করে রাখে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা। রোগী দেখার সময় চিকিৎসকদের কাছে গিয়ে তারা তাদের নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লেখার জন্য অনুনয়-বিনয় করেন। ওষুধ লেখার জন্য অনেক ক্ষেত্রে উপহার দেয়া হচ্ছে চিকিৎসকদের।

শুধু তাই নয়, রোগী চিকিৎসকের চেম্বার থেকে ফেরার পথে তাদের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে টানা হেচড়া করে কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা। নিজ নিজ কোম্পানির ওষুধ লিখেছে কিনা তা দেখার জন্য এই কাজ করেন তারা। তাদের কোম্পানির ওষুধ না লিখলে অনেক সময় তারা নিজেরা কলম দিয়ে ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ পরিবর্তন করে নিজেদের কোম্পানির ওষুধ লিখে দেয়। এমন সব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এদিন পরিচালকের নেতৃত্বে কর্মচারীরা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে অভিযান চালায়। এ সময় বিভিন্ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। তাদের ফেলে যাওয়া অর্ধশতাধিক ব্যাগ জব্দ করা হয় অভিযানে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম জানান, ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের হাসপাতালে চিকিৎসকদের ভিজিট করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তারপরেও তারা সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হাসপাতালে ভীড় করেন। এতে রোগী এবং চিকিৎসক উভয়কেই বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই ঘন্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির ব্যাগ জব্দ করা হয়েছে। অভিযানকালে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। এ কারনে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা তাদের ব্যাগ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। রোগীর সেবা স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছন।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow