Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৭:০৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২০:৪১
উত্তেজিত বদরুল বললেন 'সুখী হও খাদিজা'
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
উত্তেজিত বদরুল বললেন 'সুখী হও খাদিজা'

ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন বেলা ১১টা ৫০ মিনিট। সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয় বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমকে।

এর ৮ মিনিট পর খাদিজাকে নিয়ে আসা হয় আদালতে। শুরু হয় আদালতের কার্যক্রম। বেলা ১২টায় সাক্ষ্য দিতে শুরু করেন খাদিজা। কিন্তু সেই মুহুর্তেই আদালতে করজোড়ে ‘কিছু বলতে চাই’ বলে চিৎকার করে ওঠেন বদরুল।

উত্তেজিত বদরুল বিচারককে উদ্দেশ্য করে বলতে থাকেন, ‘আমি কিছু বলতে চাই। আমাকে একটা সুযোগ দিন। আমি সত্য কথা বলবো। আমি একজন শিক্ষক ছিলাম, আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক। ’

এসময় বদরুলকে সতর্ক করে দেন আদালতের বিচারক সাইফুজ্জামান হিরো।

বিচারক বলেন, ‘আদালত বক্তৃতা দেওয়ার জায়গা নয়। ’

বিচারকের কথার পর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বদরুল।

মামলার দিনের কার্যক্রম যখন শেষ, আদালত আগামী ১ মার্চ যুক্তিতর্কের তারিখ ধার্য করেছেন, ওই সময় ফের উত্তেজিত হয়ে ওঠেন বদরুল। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, ‘তুমি সুখী হও, খাদিজা। বিচারক আল্লাহ আছেন। আমার ফাঁসি হোক। তুমি আমার পরিবারকে পথে বসিয়েছ। মিথ্যাবাদী। ’

বদরুলের আইনজীবী ও পুলিশ সদস্যরা এ সময় তাকে শান্ত করেন। পরে আদালত থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় আজ রবিবার আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। মামলার মোট ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে আদালত ৩৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে আজ আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন খাদিজা। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য বেলা ১০টা ৩৫ মিনিটে খাদিজা তার পরিবারের অন্য স্বজনদের সাথে আদালতে আসেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ অক্টোবর এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা বদরুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গত ৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনার পর শাবি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয় বদরুলকে।

গত বছরের ৮ নভেম্বর খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৫ নভেম্বর আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেন। ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হয় মামলার বিচারিক কার্যক্রম।

বিডি-প্রতিদিন/২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow