Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : ৫ মার্চ, ২০১৭ ২৩:০৬ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ৫ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২৬
হিযবুতের পক্ষে মামলা পরিচালনা
বিচারকের সামনে সরকারি দুই কৌঁসুলির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
বিচারকের সামনে সরকারি দুই কৌঁসুলির উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়

নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন হিযবুত তাহরীরের পক্ষে মামলা পরিচালনা নিয়ে অতিরিক্ত মহানগর পিপি মোহাম্মদ নোমান চৌধুরী এবং জেলার সহকারী পিপি (এপিপি) মানস দাশ বিচারকের সামনেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন। সরকারি দুই কৌঁসুলির মধ্যে বাকবিতণ্ডায় আদালত মামলার কার্যক্রম মূলতবি করেন।

গতকাল রবিবার দুপুরে চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক নূরুল ইসলামের সামনে এই ঘটনা ঘটে।  

আদালত সূত্রে জানা যায়, হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় এদিন আদালতে দু'জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। দু'জনের জবানবন্দি শেষে তাদের জেরা করার জন্য দাঁড়ান মানস দাশ। এ সময় নোমান চৌধুরী প্রতিবাদ জানান। তখন উভয়পক্ষে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে আদালত জেরা কার্যক্রম মূলতবি করেন।

মানস দাশ বাকলিয়া থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে দায়ের হওয়া মামলায় হিযবুত তাহরীরের সদস্যদের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়েছিলেন। ওই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ছিলেন নোমান চৌধুরী।

এদিকে, নোমান চৌধুরী প্রতিপক্ষ কৌঁসুলি মানসের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন (জিডি নম্বর ২৮০)।

তাছাড়া নোমান চৌধুরী আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের সলিসিটার, চতুর্থ ‍অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক, জেলা ও মহানগর পিপি এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর মানস দাশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানা যায়।

অতিরিক্ত মহানগর পিপি মোহাম্মদ নোমান চৌধুরী বলেন, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তা হয়েও মানস দাশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা লড়তে এসেছিলেন। স্পর্শকাতর মামলায় তিনি জঙ্গিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আমি এর প্রতিবাদ জানালে তিনি আমাকে প্রকাশ্যে বিচারকের সামনে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এতে আদালত মামলার কার্যক্রম মূলতবি করতে বাধ্য হন।

মানস দাশ বলেন, তিনি (নোমান চৌধুরী) বিজ্ঞ আইনজীবী ও আমার সিনিয়র। আমি কেন তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করব? তিনি আমার প্রতিপক্ষ নন। আমি ওই মামলার আইনজীবীও নই। মামলাটির নির্ধারিত আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে তার অনুরোধে আমি যাই। সিনিয়র প্রতিবাদ করার পর আদালত আমাকে মামলা লড়তে মানা করেন। আমি আদালত ছেড়ে যাই।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাড. মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, একজন সহকারী পিপি হয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা করা অনৈতিক। মানস দাশ জেলা পিপির অধীনে কাজ করেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমি জেলা পিপিকে চিঠি দেব।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

up-arrow