Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ৯ মার্চ, ২০১৭ ১৩:০১ অনলাইন ভার্সন
দুই স্কুলছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতন; ২ ইউপি সদস্য গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
দুই স্কুলছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতন; ২ ইউপি সদস্য গ্রেফতার

রাজশাহীর দুর্গাপুরে ছাগল চুরির অভিযোগে দুই স্কুলছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তারা ওই স্কুলছাত্রের পরিবারের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।

বুধবার দুপুরে দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা ইউনিয়নের আন্দুয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ বৃহস্পতিবার বালুকা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবদুল মোতালিব ও আবদুল লতিফকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।  

পুলিশ সুপার মোয়াজ্জেম হোসেন ভুইয়া জানান, নির্যাতিত শিশু জার্জিসের পিতা জিয়াউর রহমান এ ঘটনায় থানায় মামলা করলে পুলিশ ওই দুই ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করে। এছাড়া মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেছে পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার দুই স্কুলছাত্র হলো উপজেলার হাড়িয়াপাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমানের ছেলে জার্জিস হোসেন ও পলাশবাড়ি গ্রামের সেকু আলীর ছেলে রতন। তারা দুইজন উপজেলার আমগাছী সাহার বানু উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টায় ছাগল চুরি করার অভিযোগে জার্জিস ও রতনকে আন্দুয়া গ্রামে ধরে নিয়ে যান ঝালুকা ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল মোতালেব। পরে ওই গ্রামের রেজাউলের বাড়ির সামনে মোতালেব ওই দুই স্কুলছাত্রকে গাছে বেঁধে মারপিট করেন। এরপর দুপুরে সেখানে সালিশ বৈঠক বসানো হয়।

ওই সালিশে দুই ছাত্রের পরিবারের কাছ থেকে আট হাজার করে ১৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়। বৈঠকে ইউপি সদস্য আবদুল মোতালেব ছাড়াও ঝালুকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল ও আরেক ইউপি সদস্য মির্জা আবদুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহার আলী মণ্ডল অবশ্য দুই স্কুলছাত্রকে নির্যাতন বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ইউপি সদস্য আবদুল মোতালেব জানান, মঙ্গলবার গভীররাতে জার্জিস ও রতন আন্দুয়া গ্রামের রেজাউলের বাড়ি থেকে ছাগল চুরি করে নিয়ে যায়। বুধবার ভোরে রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার হরিয়ান বাজার দিয়ে ছাগলটি নিয়ে যাওয়ার সময় বাজারের এক নাইট গার্ড সন্দেহ করে ছাগলসহ তাদের আটক করে রাখে। পরে খবর পেয়ে ছাগলসহ তিনি নিজে গিয়ে দুইজনকে নিয়ে আসেন। তিনি আরও জানান, প্রথমে তারা চুরির কথা অস্বীকার করে। পরে চড়থাপ্পড় দেওয়ার পর তারা স্বীকার করে। চুরির কথা স্বীকার করায় সালিশ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের পরিবারের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এর মধ্যে ছাগলের মালিক রেজাউলকে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকিটা দুইজনকে ছাড়িয়ে নিয়ে আনতে খরচ হয়েছে বলে জানান মোতালেব।

নির্যাতনের শিকার জার্জিসের বাবা জিয়াউর রহমান বলেন, অল্প বয়সী দুই কিশোর ভুল করতে পারে, তাই বলে তাদের গাছে বেঁধে নির্মমভাবে পেটানো কোন আইনে আছে আমাদের জানা নেই। এছাড়াও হারানো ছাগল তার মালিককে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাদের কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা আইনের আশ্র্রয় নেবেন।

বিডি-প্রতিদিন/০৮ মার্চ, ২০১৭/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow