Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৮

প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৪:২৯ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৭:৫০
মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহত ১০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:
মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে পদদলিত হয়ে নিহত ১০
সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র সদ্য প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি অনুষ্ঠানে পদদলিত হয়ে ১০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অর্ধ শতাধিক। চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান রীমা কমিউনিটি সেন্টারে সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে ৯ জনই হিন্দু এবং একজন বৌদ্ধ বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন- ঝণ্টু দাস, সুবির, টিটু, লিটন দাস, প্রদীপ তালুকদার, কৃষ্ণপদ, সুজিত দাস, জোনাকি, দুলাল ও আশিষ বড়ুয়া।  

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার ইকবাল বাহার বলেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে হতাহতের এই ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে সিএমপি কমিশনার বলেন, নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি ছিল না।

সবাই একযোগে ঢোকার চেষ্টা করতে গিয়ে কমিউনিটি সেন্টারের ঢালুতে পড়ে যায় কয়েকজন। তাদের ওপর দিয়ে অন্যরা চলে যায়। পদদলিত হয়েই এ দুর্ঘটনা  ঘটনা ঘটে।

এদিকে, মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি অনুষ্ঠানে এমন অনভিপ্রেত ঘটনায় অনেকটা হতভম্ব ও বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন তার (মহিউদ্দিন চৌধুরীর) বড় ছেলে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

তিনি হতাহতদের দেখতে চমেক হাসপাতালে ছুটে যান। হতাহতদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এক পর্যায়ে তিনি নিজেও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি উপলক্ষে নগরীর প্রায় ১২টি স্থানে মেজবানের আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে জামালখান এসএস খালেদ রোডে অবস্থিত রীমা কমিউনিটি সেন্টারে হিন্দু ও সংখ্যালঘু অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।  

বেলা ১২টা থেকে ওই কমিউনিটি সেন্টারে মানুষকে খাওয়ানো শুরু হয়। কমিউনিটি সেন্টারের পশ্চিম গেট দিয়ে প্রবেশ ও পূর্ব গেট দিয়ে বের হওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

৭-৮ হাজার লোকের খাবারের আয়োজন করা হলেও সেখানে ১০-১৫ হাজার লোক অবস্থান করে। গেট খুলে দেয়া হলে সবাই হুড়াহুড়ি করে ঢোকার চেষ্টা করে। তাছাড়া প্রবেশ পথটি ছিল ঢালু। এ কারণে ধাক্কাধাক্কির মধ্যে অনেকেই পড়ে গিয়ে পদদলিত হন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী যুবলীগ নেতা শিবু দাশ বলেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ যারা নন-বিফভোজী তাদের জন্য রীমা কমিউনিটি সেন্টারে খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু এর বাইরেও অনেকে আসেন। হুড়াহুড়ি করে ঢুকতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত এ দুর্ঘটনা ঘটে। শোকের মধ্যে এই হতাহতের কারণে আরেকটি শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জহিরুল হক জানান, আহত ২০-২৫ জনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসক ১০ জনকে মৃত ঘোষণা করেন। আরও ৩-৪ জন আশঙ্কাজনক বলেও চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান তিনি।

অন্যদিকে, চমেক হাসপাতালের জরুরির বিভাগে নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। শোকবাহ দিনে আরেকটি শোকের ঘটনা।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। তার কুলখানি উপলক্ষে বন্দর নগরীর ১২টি কমিউনিটি সেন্টারে লক্ষাধিক লোকের জন্য ঐতিহ্যবাহী মেজবানের আয়োজন করা হয়।

বিডি প্রতিদিন/১৮ ডিসেম্বর ২০১৭/আরাফাত

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow