Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৯:২১ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৩:২৯
টাকায় লেখা ফোন নম্বরেই সর্বনাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও পাবনা প্রতিনিধি
টাকায় লেখা ফোন নম্বরেই সর্বনাশ
প্রতীকী ছবি

পরকীয়ার জেরে পাবনায় স্বামী মোশাররফ হোসেনকে হত্যার দায়ে স্ত্রী কুলসুম নাহার বিউটিসহ তিনজনের ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে।

গতকাল দুপুরে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন কবিতা আক্তার এ রায় দেন। এ ছাড়া প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

বিউটি আদালতে হাজির থাকলেও অপর দুই আসামি পলাতক। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— পাবনা সদর থানার গোপালপুর এলাকার গোলাম মোহাম্মদেও মেয়ে কুলসুম নাহার ওরফে বিউটি (৪৬), জেলার আতাইকুলা উপজেলার রানীনগর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৪৭) এবং একই গ্রামের মৃত ইয়াসিন মোল্লার ছেলে সোলেমান আলী (৪৫)।

বিউটির স্বামী মোশাররফ হোসেন ওরফে খোকন মৃধাকে (৫০) শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে তাদের এই দণ্ড দেওয়া হলো। মোশাররফ পাবনা সদর থানার টেকনিক্যাল মোড়ের মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। মোশাররফ হোসেন লালনের একজন ভক্ত ছিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, রায় ঘোষণার সময় শুধু বিউটি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি দুই আসামি ঘটনার পর গ্রেফতার হলেও পরে জামিন নিয়ে পালিয়ে গেছেন। এ তিন আসামিই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত বিউটিকে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, টাকার ওপর মোবাইল নম্বর পেয়ে এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা বিউটির সঙ্গে কথা শুরু করেন রুহুল আমিন। পরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। এক পর্যায়ে মোশাররফ হোসেনকে তাদের ‘পথের কাঁটা’ মনে করেন। তাই তারা হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে রুহুল আমিন তার বন্ধু সোলেমান আলীকে নিয়ে পাবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় মোশাররফের ভাড়া বাসায় যান। এরপর তারা মোশাররফের ঘরে লুকিয়ে থাকেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোশাররফ হোসেন ঘরে ফিরলে তারা তিনজন মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

এরপর গুম করতে লাশ বস্তার ভিতর ঢোকানো হয়। কিন্তু এরই মধ্যে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে যান। তখন রুহুল আমিন ও সোলেমান আলী পালিয়ে যান। এরপর ওই রাতেই পাবনা সদর থানা পুলিশ গিয়ে মোশাররফের বাড়ি থেকে তার বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে। এ সময় বিউটিকে গ্রেফতার করা হয়।

এ নিয়ে পরদিন থানায় হত্যা মামলা হয়। এ মামলার বিচারকাজ চলাকালে মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু জানান, আসামি বিউটি এক মাসের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। তার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন আইনজীবী মাহমুদুর রহমান রুমন।

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow