Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৫:৪৮ অনলাইন ভার্সন
গাজীপুরে ইজিবাইক চালক হত্যায় পিতা-পুত্রসহ ৭ জনের কারাদণ্ড
গাজীপুর প্রতিনিধি :

গাজীপুরে ইজিবাইক চালক হত্যায় পিতা-পুত্রসহ ৭ জনের কারাদণ্ড

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ইজিবাইক চালক আব্দুল হামিদ হত্যার দায়ে পিতা-পুত্রসহ ৭ জনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার গাজীপুরের দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিতদের মধ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জের বড়নগর গ্রামের মো. আঙ্গুর খানের ছেলে মো. মাসুমকে (২৮) একটি ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। অপর ধারায় মাসুমসহ তার বাবা আঙ্গুর খান (৫০), মাসুমের বড়ভাই সুমন (২৫) ও ছোট ভাই মো. রজন (২২), একই এলাকার আকবর আলী (৫৪) ও তার ছেলে মো. হৃদয় (২০) এবং নজরুল ইসলামের ছেলে মজিবুর রহমান ওরফে মজিব ওরফে মজিবুল হককে (২৪) পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। 

গাজীপুর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহম্মদ মামলার বরাত দিয়ে জানান, গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চান্দাইয়া গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল হামিদ ও একই এলাকার আঙ্গুর খানের ছেলে মাসুম পৃথক ইজিবাইক (ব্যাটারি চালিত) চালাতো। গত ২০১৫ সালের ৮ মার্চ সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় একটি রাস্তায় আব্দুল হামিদের ইজিবাইককে পেছন থেকে আঙ্গুর খানের ইজিবাইকটি ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে হামিদ এবং আঙ্গুরের মধ্যে বিবাদ ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার পরে হামিদ কয়েকজনকে নিয়ে বিষয়টি মীমাংসার জন্য আঙ্গুরের বাড়ির সামনের রাস্তায় গেলে আঙ্গুর তার লোকজন নিয়ে রড ও লাঠিসোটা দিয়ে হামিদের উপর হামলা চালায়। এসময় মাসুম লোহার হ্যামার দিয়ে হামিদের মাথায় আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। হামলাকারীরা হামিদের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী গুরুতর আহত হামিদকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মার্চ রাত ৮টার দিকে হামিদ মারা যায়। এ ঘটনায় পরদিন নিহতের স্ত্রী মোছা. আউলিয়া বেগম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে কালীগঞ্জ থানার এস আই তরিকুল ইসলাম দীর্ঘ তদন্তের পর ৭ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। 

মামলায় ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং শুনানি শেষে আদালত আসামীদের দোষী সাব্যস্ত করে সোমবার ওই দণ্ড দেন। রায় ঘোষণাকালে আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহম্মদ এবং আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন মো. হুমায়ুন কবির ও মো. কাউসার সিকদার। 

বিডি-প্রতিদিন/২২ জানুয়ারি, ২০১৮/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow