Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৫:৫৯ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১৭ এপ্রিল, ২০১৮ ১৯:৪২
রাজীব হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি যাত্রী অধিকার আন্দোলনের
অনলাইন ডেস্ক
রাজীব হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবি যাত্রী অধিকার আন্দোলনের
সংগৃহীত ছবি
bd-pratidin

রাজধানীতে দুই বাসের রেষারেষিতে চাপা পড়ে কলেজছাত্র রাজীবের প্রাণ হারানোর ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে ঘাতক বাসচালকদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে রাজীবের হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে যাত্রী অধিকার আন্দোলনের অবস্থান কর্মসূচি থেকে তিনি এ দাবি জানান।

কেফায়েত শাকিল বলেন, রাজধানীর গণপরিবহনগুলোর চালকরা এতটাই বেপরোয়া হয়েছে যে মানুষের প্রাণ এখন তাদের কাছে কিছুই না। তারা রাস্তায় মানুষের জীবন নিয়ে প্রতিযোগিতায় মেতে উঠে। যার জ্বলন্ত প্রমাণ কলেজছাত্র রাজীব হোসাইনের মৃত্যু, গৃহবধূ আয়েশা খাতুনের মেরুদণ্ড ভাঙা ও বেসরকারি চাকরিজীবী রুনা আক্তারের পা থেতলে যাওয়া।

তিনি বলেন, আমরা বহুদিন ধরে দাবি তুলে আসছি রাজধানীর পরিবহন নৈরাজ্য বন্ধ করতে হবে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তখন ব্যবস্থা নিলে আজ রাজীবকে বলি হতে হতো না। তাই আমরা মনে করছি এ হত্যাকাণ্ডে প্রশাসনেরও গাফিলতি রয়েছে।

যাত্রী অধিকার আন্দোলনের এ নেতা বলেন, রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের সামে চালু হওয়া চিটিং সার্ভিস যেভাবে মানুষের পকেট কাটছে সেভাবে কাটছে গলাও। এ পরিবহনগুলো সন্ত্রাসের চেয়েও বড় সন্ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের আজই না রুখা হলে পরিবহন খাতে যে কঠিন অবস্থার সৃষ্টি হবে এর দায় কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। এসময় তিনি সিটিং সার্ভিসের নামে চিটিংবাজী বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি আরো বলেন, সিটিং সার্র্ভিসের সংজ্ঞা বা বৈশিষ্ট কি আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশসনের কাছে জানতে চাই। একটি গাড়িতে সিট পেরিয়ে দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না তবুও সেটা সিটিং সার্ভিস হয় কিভাবে?

এসময় তিনি রাজীবের স্মরণে একমাস যাত্রী ও চালকদের সচেতনতায় গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। পরে স্বজন পরিবহনের রুট পার্মিট বাতিল, রাজীবের পরিবারের ভরনপোষণের ব্যবস্থা করা ও দ্রুত বিচারের জন্য সরকারকে একমাসের সময় বেধে দেন। একমাসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এসময় তিনি শিগগরির পরিবহনব্যবস্থা শৃঙ্খলে আনাসহ সংগঠনের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো-দাবিগুলো হলো : রাজীব হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সব সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে আইন করতে হবে, যানজট নিয়ন্ত্রণ, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও যাত্রীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিতে যত্রতত্র যাত্রী উঠা-নামা বন্ধ করতে হবে, সারাদেশে গণপরিবহনে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করতে হবে, রাজধানীসহ দেশের নগর-মহানগর ও আন্তজেলার গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের হাফ ভাড়া কর্যকর করতে হবে এবং দূর পাল্লার পরিবহনে শিক্ষার্থীদের ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় দিতে হবে, নামে-বেনামে চালু হওয়া সিটিং সার্ভিসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে, বিআরটিএ’র অনুমতিক্রমে কিছু স্পেশাল পরিবহন চলাচল করতে পারে, তবে তা অবশ্যই যথাযথ মানের হতে হবে, গণপরিবহনের ভাড়ায় সমতা আনতে হবে। প্রতিটি গাড়িতে ভাড়ার চার্ট রাখতে হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে, পরিবহন নৈরাজ্য বন্ধে বিআরটিএ’কে নিয়মিত ‘কার্যকর’ অভিযান পরিচালনা করতে হবে এবং  গণপরিবহনে নারীদের নিরাপত্তার নিশ্চিতে ব্যবস্থা করতে হবে। নারী হয়রানি শিকার হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রাইভেট পরিবহনের চাপ কমাতে উন্নতমানের এসি, নন-এসি সার্ভিস চালু করতে হবে, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ইনসুরেন্স চালু করতে হবে।

এসময় অন্যান্যের মাঝে আরো উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক মুজাহিদুল ইসলাম, মুখপাত্র মাহমুদুল হাসান শাকুরী, মাঈন উদ্দিন আরিফ, মনিরুল ইসলাম, মাহফুজ বিন শাকুরী, যোবায়ের আহমেদ, হাসান আল বান্না, তামান্না আক্তার, এস এম সজিব, এনামুল, হুমায়ুন, আকিব, রাকিব এবং শোয়েব প্রমুখ।


বিডি প্রতিদিন/১৭ এপ্রিল ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow