Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:১১ অনলাইন ভার্সন
প্রকৌশলীকে গুলি করে হত্যার হুমকিতে বিচার দাবিতে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
প্রকৌশলীকে গুলি করে হত্যার হুমকিতে বিচার দাবিতে মানববন্ধন

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামানকে লাঞ্ছিত করাসহ তাকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোমেন সিকদারের বিরুদ্ধে। কাজের অতিরিক্ত বিল দিতে রাজি না হওয়ায় আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে নগর ভবনে নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসকে তার দপ্তরে লাঞ্ছিত করা হয়। এক পর্যায়ে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে ঠিকাদার মোমেন সিকদার পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করাসহ অভিযুক্তের বিচার দাবিতে আজ বিকেল ৪টায় নগর ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছে বিসিসি’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মানববন্ধনে উপযুক্ত বিচার না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা। 

ঠিকাদার মোমেন সিকদার সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। বর্তমান মেয়রের আমলে বিসিসির উন্নয়ন কাজের বেশিরভাগের ঠিকাদার নিযুক্ত হন মোমেন।  আজ নগর ভবনে এই ঘটনার সময় মেয়র কামাল ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। 

বিসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নগরীর আমির কুটির ও কাউনিয়া জানুকি সিংহ রোডের হরিজন কলোনীতে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় পুকুরের ঘাটলা ও প্রাচীর নির্মাণ এবং সড়ক পাকাকরন কাজের ঠিকাদার মোমেন সিকদার। বেশ কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি তিনি ফের কাজ শুরু করেন। ওই কাজের এখন পর্যন্ত ২০ ভাগও সম্পন্ন হয়নি। এমতাবস্থায় মোমেন সিকদার ১ কোটি টাকা বিল দাবী করেন। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী কাজের অতিরিক্ত কোন বিল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। 

এনিয়ে সোমবার দুপুরে মোমেন সিকদার নগর ভবনে গিয়ে প্রথমে সহকারী প্রকৌশলী মামুনর রশিদের সঙ্গে বাতবিতান্ডা করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামানের কক্ষে গিয়ে তার সঙ্গে বাকবিতান্ডার এক পর্যায়ে মোমেন সিকদার উত্তেজিত হয়ে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করেন। তিনি একাধিকবার তাকে মারতে তেড়ে যান এবং গুলি করে হত্যার হুমকি দেন। উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারা তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। প্রায় আধাঘন্টা উত্তেজিত পরিস্থিতির মধ্যে অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে গেলে ঠিকাদার মোমেন দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন। ওই ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান নির্বাহী প্রকৌশলী আনিস। 

বিসিসি’র সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ বলেন, ৩ কোটি ৬২ লাখ টাকার কাজটি ৩৩ ভাগ কম দরে ২ কোটি ৬০ লাখ টাকায় নেন মোমেন সিকদার। এ কাজে নিশ্চিত লোকসান হবে বুঝতে পেরে তিনি আগাম বিল তুলে নিতে তৎপর হন। সম্প্রতি বিসিসিতে সোয়া ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ এসেছে জানতে পেরে মোমেন সিকদার হরিজন পল্লীর কাজের বিপরীতে ১ কোটি টাকা বিল দেওয়ার জন্য প্রকৌশল বিভাগে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। 

নগর ভবন ত্যাগ করার পর পরই মোমেন সিকদার মুঠোফোন বন্ধ করে দেওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি। 

বিসিসি’র সচিব মো. ইসরাইল হোসেন জানান, কাজের অতিরিক্ত বিল চেয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে ঠিকাদারের দুর্ব্যবহারের ঘটনা দুঃখজনক। এটা মেনে নেওয়া যায় না। 

বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ওই ঘটনার সময় তিনি নগর ভবনে ছিলেন না। কোন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে ঠিকাদার অশালীন আচরণ করে থাকলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। 

বিডি প্রতিদিন/ মজুমদার

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow