Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৬ জুলাই, ২০১৮ ২২:৩৮ অনলাইন ভার্সন
কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
আদালত প্রতিবেদক
কাকরাইলে মা-ছেলে হত্যা মামলায় তিনজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

রাজধানীর কাকরাইলে মা ও ছেলে হত্যা মামলায় তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। সোমবার এ অভিযোগপত্র আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং পুলিশের তদন্তে সন্তষ্ট না হওয়ার কারণে মামলার বাদীর আইনজীবী না-রাজির আবেদনের জন্য সময় চান। 

পরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম খুরশিদ আলম আগামী ৮ আগস্ট নারাজি দাখিল ও শুনানির জন্য নতুন দিন ধার্য করেন। 

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার ইন্সপেক্টর মো. আলী হোসেন ঢকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে (চার্জিশিট) আসামিরা হলেন, নিহত শামসুন্নারের স্বামী আব্দুল করিম, করিমের তৃতীয় স্ত্রী শারমিন আক্তার মুক্তা ও মুক্তার ভাই আল আমিন ওরফে জনি।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, কাকরাইলের ভিআইপি রোডের ৭৯/১ নম্বর বাসার গৃহকর্তা আবদুল করিমের প্রথম স্ত্রী শামসুন্নাহার করিম (৪৬) ও তার ছেলে শাওনকে (১৯) হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। 

এ ঘটনায় নিহত শামসুন্নাহারের ভাই আশরাফ আলী বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনি ভগ্নিপতি করিম (৫৬), করিমের তৃতীয় স্ত্রী শারমিন আক্তার মুক্তা (২৫) এবং মুক্তার ভাই আল আমিন জনিকে আসামি করা হয়। আসামি আব্দুল করিম ২৮ বছর পূর্বে নিহত শামসুন্নাহারকে বিবাহ করেন। তাদের সন্তান নিহত শাওন ‘ও’ লেভেলে পড়ালোখা করতো। আসামি করিম জনৈকা ফরিদাকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। ওই ঘরেও আকাশ নামে একটি সন্তান রয়েছে। পরে ফরিদাকে তালাক দিয়ে ৪ বছর পূর্বে আসামি মুক্তাকে বিবাহ করেন। তৃতীয় বিয়ে করার পর আসামি করিম প্রথম স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজ খবর নিতেন না এবং মাঝে মধ্যে বাসায় এসে স্ত্রীকে মারধর করতেন।
এ হত্যাকারুর ৩/৪ মাস পূর্বে তৃতীয় স্ত্রী মুক্তা বাসায় এসে নিহত শামসুন্নাহারকে মারধর করে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়। এরপর নিহত শামসুন্নাহার মুক্তাকে তালাক দেওয়ার জন্য আসামি করিমকে চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু রাজি না হওয়ায় নিহত শামসুন্নাহার ও ছেলে শাওন আসামি করিমকে মরধর করেন। নিহত শামসুন্নারের নামে অনেক সম্পাদ থাকায় আসামি আব্দুল করিম তাকে তালাক দিতে পারছিলেন না। তাই মারধরের ঘটনার পর আসামি আব্দুল করিম মুক্তা ও জনিকে নিয়ে নিহত শামসুন্নাহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০১৭ সালের ১ নভেম্বর আসামি জনি নিউমার্কেট এলাকার নিউ সুপার মার্কেটের ১০০ নম্বর দোকান থেকে এগারশ টাকা দিয়ে একটি ছোরা কিনেন। পরে ওইদিন সন্ধার সময় ৭৯/১, ভিআইপি রোডস্থ কাকরাইলের ৫ম তলার নিহতদের বাসায় ঢুকে গৃহকর্মী রাশিদাকে রান্না ঘরে বন্দি করে রেখে প্রথমে শাওনকে বুকে ছরি চালিয়ে এবং পরে শামসুন্নাহারে পেটে মুখেসহ বিভিন্ন স্থানে ছুরি চালিয়ে হত্যা করেন।

বিডি প্রতিদিন/এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow