Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২০ জুলাই, ২০১৮ ২০:২৪ অনলাইন ভার্সন
বরিশালে ফের পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর, আটক ২
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
বরিশালে ফের পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর, আটক ২

বরিশাল নগরীর  কাউনয়া জোড় মসজিদ এলাকায় এক পুলিশ কনস্টেবলকে মারধর করার অভিযোগে ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে এই হামলার পর নগরীর কাউনিয়া থানার বকশী কনস্টেবল রাহাদ হোসেনকে আহতাবস্থায় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন কাউনিয়া থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম। 

হামলাকারী আটক দুই যুবক হলেন নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. হাসান এবং মো. শাহজাহানের ছেলে আল-আমিন। এদের মধ্যে হাসান মহানগর শ্রমিক লীগের সভাপতি ও জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি আফতাব হোসেনের ভাতিজা বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

পুলিশ সূত্র জানায়, কাউনিয়া থানার বকশী (কনস্টেবল) রাহাদ হোসেন দুপুর আড়াইটার দিকে ওই থানার নারী এসআই আকলিমাকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ফটোকপি করতে বাইরে যাচ্ছিলেন। জোড় মসজিদ চার রাস্তার মাথা এলাকায় গতি রোধক অতিক্রমকালে পুলিশের ওই মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় দুই যুবক আরোহী আরেকটি মোটরসাইকেল। এতে এসআই আকলিমা মোটরসাইকেল থেকে রাস্তায় পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও তিনি কোনমতে বেঁচে যান। এ সময় থানার বকশী রাহাদ হোসেন তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান ওই দুই যুবকের কাছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দুই যুবক তাদের সাথে বাদানুবাদে লিপ্ত হয় এবং এক পর্যায়ে কনস্টেবল রাহাদকে বেদম মারধর করে। তারা তাকে রাস্তায় ফেলে পিঠে এবং বুকে পদদলিত করে। এতে কনস্টেবল রাহাদ রক্তাত্ব জখম হয়। সাথে থাকা এসআই আকলিমা অদূরে অবস্থিত থানায় খবর দিলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলাকারী হাসান ও আল-আমিনকে আটক করে। 

নগরীর কাউনিয়া থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম জানান, নারী পুলিশ অফিসারবাহী মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় ওই দুই যুবক পুলিশের উপর চড়াও হয়। তারা কনস্টেবল রাহাদকে বেদম মারপিট করে। তাকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতার সহায়তায় হামলাকারী দুই যুবককে আটক করার কথা কথা জানান ওসি নুরুল ইসলাম। এ ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী এসআই আকলিমা বাদী হয়ে হামলাকারী দুই যুবকের বিরুদ্ধে সরকারী কাঁজে বাঁধা এবং পলিশের উপর হামলার অভিযোগে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন কাউনিয়া থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম। 

উল্লেখ্য, এর প্রায় এক সপ্তাহ আগে গত শনিবার (১৪ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বরিশাল নদী বন্দরে অপেক্ষমান ঢাকাগামী এমভি সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ভিআইপি জোনে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাহফুজুর রহমান এবং রেঞ্জ ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে বিএমপি কমিশনারের স্টাফ অফিসার সহকারী কমিশনার মো. জাহিদুল আলম, কমিশনারের দেহরক্ষী কনস্টেবল মো. হাসিব এবং মিডিয়া বিভাগের ক্যামেরাম্যান কনস্টেবল ওবায়দুল হককে বেদম মারধরের ঘটনা ঘটে। 


বিডি প্রতিদিন/২০ জুলাই ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow