Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:৪৩ অনলাইন ভার্সন
‘যুবরাজ’-এর মৃত্যুর এক বছরেও পরিবর্তন নেই
কুমিল্লা চিড়িয়াখানা যেন 'মুরগীর ফার্ম'!
মহিউদ্দিন মোল্লা, কুমিল্লা:
কুমিল্লা চিড়িয়াখানা যেন 'মুরগীর ফার্ম'!

সিংহ যুবরাজের মৃত্যুর প্রায় এক বছরেও পাল্টায়নি কুমিল্লা চিড়িয়াখানা। উল্টো সেটি দিন দিন মৃত বাড়িতে পরিণত হচ্ছে। এই নিয়ে কুমিল্লার মানুষের ক্ষোভের শেষ নেই।

যুবরাজ মারা গেছে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। খাবার না দেয়ায় সিংহটি মারা গেছে বলে ফেসবুকে দাবি করা হয়। তবে জেলা পরিষদ বার্ধক্যের কারণে যুবরাজের মৃত্যু হয় বলে জানায়।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রতিদিনের অনলাইনে 'চিড়িয়াখানার রুগ্ন সিংহের ছবি নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই সংবাদে চিড়িয়াখানার বেহাল অবস্থার কথাও তুলে ধরা হয়। সংবাদের পর চিড়িয়াখানার উন্নয়নে বিভিন্ন ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।  

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় নেই উল্লেখযোগ্য পশু-পাখি। যে কয়েকটি পশু-পাখি আছে তাও মুমূর্ষু প্রায়। অধিকাংশ খাঁচা শূন্য। একটু বৃষ্টি হলে চিড়িয়াখানা ডুবে যায়, ডুবে যায় এর প্রবেশ পথও। এতে দর্শনার্থী কমে গেছে। গত ছয় বছর ধরে এমন দুরাবস্থা কুমিল্লা চিড়িয়াখানার। কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় তেমন দর্শনার্থী নেই, অনেকটা পরিত্যক্ত বাড়ির মতো। সব মিলিয়ে রয়েছে ১০টি বানর, তিনটি বন মোরগ, দুইটি মেছো বাঘ, হনুমান একটি, তিতি মোরগ দুইটি, ঘোড়া দুইটি, কালাম পাখি দুইটি ও অজগর সাপ দুইটি। এদিকে একটি খাচায় ২৬টি টার্কি মোরগ রাখা হয়েছে। মাঝে মাঝে তা ছেড়ে দেয়া হয়। দর্শনার্থীরা অনেকে কুমিল্লা চিড়িয়াখানাকে মজা করে এখন 'মুরগীর ফার্ম' বলে মন্তব্য করছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৮৬ সালে কুমিল্লা নগরীর কালিয়াজুরি মৌজায় জেলা প্রশাসকের বাংলোর পাশে ১০.১৫ একর ভূমিতে গড়ে উঠে কুমিল্লা চিড়িয়াখানা ও বোটানিক্যাল গার্ডেন।  

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ থেকে চিড়িয়াখানায় পরিবার নিয়ে আসেন ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ‘শিশুরা একটি খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরছে। খালি খাচাকে তারা চিড়িয়াখানা বলে ভাববে। এখানে ২০টাকা টিকেট কেটে কয়েকটি টার্কি মোরগ আর খাচা ছাড়া দেখার কিছু নেই।’

চিড়িয়াখানার লিজ গ্রহীতা আনিসুর রহমান বলেন, ‘তিন বছরের জন্য ২৫ লাখ টাকা লিজ নিয়েছি। আয়কর আর আনুষাঙ্গিক মিলিয়ে তা ৩৫ লাখ হবে। এখানে তেমন কোনো প্রাণী নেই, তাই দর্শনার্থী আসছে না। গতকাল ২৮০০টাকার টিকেট বিক্রি করেছি। লিজের এত টাকা কিভাবে তুলবো জানি না।’

কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ভৌমিক বলেন, ‘জেলা পরিষদের আয় কম। তবু আমরা দেয়াল সংস্কারসহ কিছু কাজ করেছি। কিছু প্রাণী আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বড় বরাদ্দ পেলে এর ব্যাপক সংস্কার করা যাবে।’ 


বিডি প্রতিদিন/ ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮/হিমেল

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow