Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:৫০ অনলাইন ভার্সন
জনগণের স্বাস্থ্য সুবিধাসহ চার বিল পাস
নিজস্ব প্রতিবেদক
জনগণের স্বাস্থ্য সুবিধাসহ চার বিল পাস

মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতার পরিধি বৃদ্ধি, সরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের সুবিধা বৃদ্ধি, জনগণের দোর গোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে এবং দেশের খেলাধূলার উন্নয়নে আজ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে চারটি বিল।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদের ২২তম অধিবেশনে এসব বিল পাস হয়। বিলের ওপর আনীত সংশোধনী, জনমত যাচাই ও বছাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাবসমুহ কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।
উত্তরাধিকারের অবর্তমানে ভাতা পাবেন মুক্তিযোদ্ধার ভাই-বোন প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ও নিয়মিত আয়ের উৎস থাকা মুক্তিযোদ্ধাদেরও সম্মানীভাতার পাওয়ার অধিকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সংসদে পাস হয়েছে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৮ বিল। বিলে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার হিসেবে স্বামী/স্ত্রী/সন্তান/পিতা-মাতার অবর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার ভাই-বোনকে ভাতা গ্রহণের অধিকার দেওয়া হয়েছে। বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এই বিলে এই বোর্ডের পূর্বানোমদন ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রের কোন স্থাবর সম্পত্তি বিক্রয়, হস্তান্তর ও দীর্ঘ মেয়াদী ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রহিত করা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প শ্রমিকদের চাকরির শর্তাবলী আইন \ ২০১৬ সালের ১ লা জুলাই থেকে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে সংসদ পাস করেছে ‘পণ্য উৎপাদনশীল রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠান শ্রমিক (চাকরীর শর্তাবলী) বিল, ২০১৮। বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।  রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরীর সুবিধাদি বৃদ্ধি করে ভূতাপেক্ষা কার্যকারিতা দিয়ে ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মজুরি এবং ২০১৬ সালের ১ জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর করার বিধান রেখে বিলটি পাস করা হয়। ২০১৮ সালে গঠিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীতা কমিশনের সুপারিশের আলোকে মহার্ঘ্যভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রীসভা। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি হবে ৮ হাজার ৩০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মজুরি হবে ১১ হাজার ২০০ টাকা। অর্থাৎ উভয় ক্ষেত্রে মজুরি ১০০ শতাংশ বাড়ল। আগে এই শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৪ হাজার ১৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ মজুরি ৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিল।
রাষ্ট্রায়ত্ব শিল্প শ্রমিকদের মধ্যে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন, বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস কর্পোরেশন, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশন, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনে কর্মরত শ্রমিকরা এই আইনের আওতায় সুবিধাদি পাবেন।
কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট\ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোড় গোরায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন ও পরিচালনার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাষ্ট বিল ২০১৮ পাস করেছে সংসদ। স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন। এই বিলটি পাস হওয়ার ফলে সরকারের ‘রিভাইটালাইজেশন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্প এবং ‘কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার’ শীর্ষক প্ল্যানের আওতায় স্থাপিত কমিউনিটি ক্লিনিকসমুহ এই আইনের অধীনে ন্যাস্ত হবে। এই ট্রাস্ট্রের পরিচালনার জন্য একটি উপদেষ্টা কমিটি থাকবে। যার প্রধান হবেন প্রধানমন্ত্রী। এছড়া ট্রাস্ট পরিচালনার জন্য একটি বোর্ড থাকবে। বোর্ডেও প্রধান হবে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত কোন সমাজ হিতৈষী ব্যক্তি। প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন \ খেলা ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পরিচালনার দায়িত্ব সাধারণ পরিষদ ও কার্যনির্বাহী পরিষদের উপর সমানভাবে ন্যাস্ত রেখে পাস হয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিল ২০১৮। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ড. বীরেন শিকদার বিলটি পাস করার প্রস্তাব করেন। এর আগে বিলের নানা অসঙ্গতি নিয়ে সংসদে তুলে ধরেন বিরোধী দলের সদস্যরা। তবে বিলের ওপর আনা তাদের সংশোধনী, জনমত যাচাই, বাচাই কমিটিতে প্রেরণের প্রস্তাব কন্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থাকে স্বীকৃতি ও সনদ প্রদান করাসহ বিলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কার্যাবলি বিবৃত হয়েছে। দুইটি কমিটি এই পরিষদ পরিচালনা করবে। সাধারণ পরিষদ ক্রীড়ার উন্নয়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নে  নির্বাহী কমিটিকে পরামর্শ দিবেন। তবে উভয় কমিটির সভাপতি, সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন উক্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। উভয় কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করিবেন পরিষদের নিয়োজিত সচিব। সাধারণ পরিষদে ১১ মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ৩০ ক্যাটাগরীতে শতাধিক সদস্যকে অন্তর্ভূক্তির বিধান রাখা হয়েছে। সাধারণ পরিষদ দুই বৎসরে একবার সভায় মিলিত হবে। তবে প্রতি বছর অডিট করাবে। নির্বাহী কমিটি প্রতি তিন মাস অন্তর সভা করবে। বিলের নানা অসঙ্গতি নিয়ে সংসদে তুলে ধরেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

বিডি প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow