Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ১০:১৪ অনলাইন ভার্সন
হলি আর্টিজান হামলার জন্য টাকা ও অস্ত্র সংগ্রহকারী কে এই জঙ্গি রিপন?
নিজস্ব প্রতিবেদক
হলি আর্টিজান হামলার জন্য টাকা ও অস্ত্র সংগ্রহকারী কে এই জঙ্গি রিপন?

গাজীপুরের বোর্ডবাজারে একটি বাস থেকে শনিবার মধ্যরাতে রাজধানীর গুলশানে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার দুই পলাতক আসামির মধ্যে একজন মামুনুর রশিদ রিপন ওরফে রেজাউল করিম ওরফে রেজাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থেকে ঢাকার দিকে আসার সময় রাত ১টার দিকে যাত্রীবাহী বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

র‌্যাবের জেরার মুখে রিপন জানায়, হলি আর্টিজান হামলার জন্য সে ৩৯ লাখ টাকা ও অস্ত্র সংগ্রহ করে। আর এসব সংগ্রহ করা হয় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। সেই হামলার পরপরই সে সীমান্ত গলে ভারতে পালিয়ে যায়। গতকাল রবিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান এসব তথ্য দিয়ে বলেন, রিপনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

বগুড়ার নন্দীগ্রামের শেখের মাড়িয়ার মৃত নাছিরউদ্দিনের ছেলে রিপন পড়াশোনা করেছে ঢাকার মিরপুরে, বগুড়ার নন্দীগ্রাম ও নওগাঁর বিভিন্ন মাদ্রাসায়। ২০০৯ সালে বগুড়ার নন্দীগ্রাম ছেড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাদ্রাসাতুল দারুল হাদিসে ভর্তি হয় সে। সেখান থেকে দাওরায়ে হাদিস পাস করে জেএমবির একাংশের আমির ডা. নজরুলের হাত ধরে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয় রিপন। 

শুরুর দিকে তার দায়িত্ব ছিল ইয়ানতের (চাঁদা) টাকা সংগ্রহ করা। পরবর্তী সময়ে পুরো জেএমবির অর্থ ও সদস্য সংগ্রহের দায়িত্ব পায় সে। সূত্র জানায়, বিকাশের দোকান লুট করে ৬ লাখ টাকা, সিগারেটের দোকান লুট করে ১ লাখ এবং গাইবান্ধা থেকে ১ লাখ টাকাসহ মোট ৮ লাখ টাকা জেএমবির আমির সারোয়ার জাহানের কাছে পৌঁছে দেয় সে। সারোয়ার জাহানের মাধ্যমে জঙ্গি আবদুল্লাহর সঙ্গেও পরিচয় হয় তার।

হলি আর্টিজান হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে জঙ্গিরা নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে। তখন আত্মগোপনে থেকে রিপন পুনরায় জঙ্গিদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। এ উদ্দেশ্যে সে ২০১৮ সালের শুরুর দিকে পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে জঙ্গিদের সংগঠিত করতে থাকে। নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা স্পর্শকাতর স্থানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা ছিল তার। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় তা সম্ভব হয়নি।

 

বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর

আপনার মন্তব্য

up-arrow