Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০৮:৫২ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ১২:১৯
জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের গবেষণা প্রতিবেদন
প্যাকেটজাত দুধে মাত্রাতিরিক্ত সিসা, বাদ পড়েনি দইও
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্যাকেটজাত দুধে মাত্রাতিরিক্ত সিসা, বাদ পড়েনি দইও
প্রতীকী ছবি

প্যাকেটজাত গাভীর দুধে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশক ও নানা ধরনের অ্যান্টিবায়োটিকের উপাদান পাওয়া গেছে। প্রক্রিয়াজাত করার বাইরে সরাসরি সংগ্রহ করা গাভীর দুধেও পাওয়া গেছে বিভিন্ন অণুজীব। প্যাকেটজাত দুধে সিসা পাওয়া গেছে মাত্রাতিরিক্ত। বাদ পড়েনি দইও। 

দুগ্ধজাত এই পণ্যেও মিলেছে মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর পদার্থ। সরকারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ফুড  সেফটি ল্যাবরেটরির (এনএফএসএল) গবেষণায় এসব ফলাফল পাওয়া গেছে। সংস্থাটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আর্থিক সহায়তায় গাভীর খাবার, দুধ, দই ও প্যাকেটজাত দুধ নিয়ে এই জরিপের কাজ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গোখাদ্যের ৩০টি নমুনা গবেষণা  শেষে দেখা গেছে, এর মধ্যে কীটনাশক (২ নমুনায়),  ক্রোমিয়াম (১৬টি নমুনায়), টেট্রাসাইক্লিন (২২টি নমুনায়), এনরোফ্লোক্সাসিন (২৬টি নমুনায়), সিপ্রোসিন (৩০টি নমুনায়) এবং আফলাটক্সিন (৪টি নমুনায়) গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রা পাওয়া যায়। গাভীর দুধের ৯৬টি নমুনার মধ্যে ৯ শতাংশ দুধে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কীটনাশক, ১৩ শতাংশে টেট্রাসাইক্লিন, ১৫ শতাংশে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি মাত্রায় সিসা পাওয়া যায়। ৯৬ শতাংশ দুধে মেলে বিভিন্ন অণুজীব। প্যাকেটজাত দুধের ৩১টি নমুনায় ৩০ শতাংশে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি হারে আছে টেট্রাসাইক্লিন। একটি নমুনায় সিসা মিলেছে। একই সঙ্গে ৬৬ থেকে ৮০ শতাংশ দুধের নমুনায় বিভিন্ন অণুজীব পাওয়া গেছে। 

দইয়ের ৩৩টি নমুনা পরীক্ষা করে একটিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি সিসা পাওয়া গেছে। আর ৫১ শতাংশ নমুনায় মিলেছে বিভিন্ন অণুজীব। এনএফএসএল প্রকাশিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান  থেকে গাভীর দুধের ৯৬টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ঢাকাসহ তিন জেলার ছয়টি উপজেলাসহ ১৮টি স্থান  থেকে দুধের পাশাপাশি অন্যান্য নমুনাও সংগ্রহ করা হয়। 

গাভীর দুধ ও গোখাদ্য সরাসরি খামার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। দই ঢাকা শহরের বিভিন্ন ব্র্যান্ড দোকান ও আশপাশের উপজেলার দোকান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। বিভিন্ন সুপার স্টোর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে বাজারে প্রচলিত প্রায় সব ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত তরল দুধ এবং আমদানি করা প্যাকেট দুধ। এগুলো নির্দিষ্ট নিয়মে ল্যাবরেটরিতে পৌঁছানোর পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, প্রায় সব গোখাদ্যে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি পাওয়া  গেছে। কীটনাশকও মিলেছে কোনো কোনো খাবারে। সিসা ও ক্রোমিয়ামও আছে। মানুষের রোগ প্রতিরোধ শক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এগুলো। সিসা ও  ক্রোমিয়াম ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে।


বিডি-প্রতিদিন/আব্দুল্লাহ তাফসীর

আপনার মন্তব্য

up-arrow