Bangladesh Pratidin || Highest Circulated Newspaper
শিরোনাম
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২০:৫৮
আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ২৩:৪১

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

মেডিকেলের ডাস্টবিনে ৩১ অপরিণত শিশুর মরদেহ নিয়ে তোলপাড়!

গাইনি বিভাগের প্রধান বরখাস্ত

রাহাত খান, বরিশাল

মেডিকেলের ডাস্টবিনে ৩১ অপরিণত শিশুর মরদেহ নিয়ে তোলপাড়!
ফাইল ছবি

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাস্টবিন থেকে ৩১টি অপরিণত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার রাত ৮টার দিকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। এক সঙ্গে এতো অপরিণত শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবরে জনমনে আতঙ্ক এবং বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মী মিরাজ হাওলাদার জানান, অন্যান্য দিনের মতো সোমবার সন্ধ্যার পর সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে বর্জ্য অপসারণ করতে যায়। কাজ শুরুর মুহূর্তে একই সঙ্গে স্তুপ আকারে বেশকিছু অপরিণত শিশুর লাশ দেখে আতকে ওঠে তারা। এসময় ভয়ে তারা বর্জ্য অপসারণের কাজ বন্ধ করে দেন। মরদেহগুলো অপসারণ না করা পর্যন্ত তারা বর্জ্য অপসারণ না করার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।

হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মোদাচ্ছের কবির জানান, শের-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা ঘটনাস্থলে স্তূপ আকারে থাকা অপরিণত শিশুর মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে তিনটি নবজাতকের দেহ ছিল পাত্রে ভরা। অপরিণত শিশুর মরদেহগুলো হাসপাতালের গাইনী বিভাগ থেকে ফেলা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, ক্যাম্পাস থেকে এক সঙ্গে ৩১টি অপরিণত শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাৎক্ষণিক জানতে চাইলে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন শের-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক। তবে মুঠোফোনে পরিচালক ডা. বাকীর হোসেন বলেন, এটি তার বিষয় নয়। হাসপাতালের গাইনী বিভাগের শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য নবজাতকের মরদেহগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছিল। মেয়াদ শেষে মরদেহগুলো ফেলে দেয়া হয়। আবার নতুন মরদেহ সংরক্ষণ করা হয়। তবে ফেলে দেয়ার সময় হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারকে জানালে তারা মরদেহগুলো নিরাপদে মাটিচাপা দিতেন। কিন্তু গাইনী বিভাগ থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে মরদেহগুলো ডাস্টাবিনে ফেলার কারণেই এই বিপত্তি দেখা দিয়েছে।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেন শের-ই বাংলা মেডিকেলের পরিচালক ডা. বাকীর হোসেন। এসময় তিনি 'এভাবে লাশগুলো ফেলা উচিত হয়নি' উল্লেখ করে বলেন, এ ঘটনায় দেশের কাছে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. খুরশিদ জাহান ও নার্সিং ইনচার্জ জোসনা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এই ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, নবজাতকের মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।


বিডি প্রতিদিন/১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/আরাফাত/হিমেল


আপনার মন্তব্য