Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১২ জুলাই, ২০১৬ ১২:১২
আপডেট :
ভেজালরোধে চসিকের খাদ্য পরীক্ষাগার
রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম
ভেজালরোধে চসিকের খাদ্য পরীক্ষাগার

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন খাদ্যপণ্যের ভেজাল ও জীবাণু চিহ্নিত করতে নির্মাণ করেছে আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার। চলতি বছর থেকে এটি পরীক্ষামূলক চালু করা হয়। পরীক্ষাগারটি পূর্ণাঙ্গরূপ পেলে সব প্রকার খাবারের ভেজালরোধ, খাদ্যে বিষক্রিয়া পরীক্ষা ও অনুমোদনহীন পণ্য নিয়ে গ্রাহকদের সুস্পষ্ট ধারণা দেওয়া হবে। নিশ্চিত করা হবে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার। উৎপাদন ও ক্রয়বিক্রয় হবে ভেজালমুক্ত খাদ্য। চসিক নগরীর বিবিরহাটে পরীক্ষাগারটি নির্মাণ করে।     

সূত্র জানায়, ভেজালমুক্ত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন নিশ্চিত করতে ৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে নির্মিত হয়েছে দুটি আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার। কেনা হয়েছে কোটি টাকার যন্ত্রপাতি। স্থাপিত হয়েছে ছয়টি ল্যাব। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, পরীক্ষাগারটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়নি। তবে খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদে ৩৪ জন জনবল নিয়োগের একটি প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ও চট্টগ্রামের একমাত্র আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগারে ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক কাজ শুরু হয়েছে।

পরীক্ষাগারের মাইক্রোবায়োলজিস্ট আশীষ কুুমার দাশ বলেন, একমাত্র বিশুদ্ধ খাবারের অভাবেই মানুষের পেটের অধিকাংশ রোগ হয়। এর মধ্যে ডায়েরিয়া, পেট ব্যথা, গ্যাস্টিক, লিভার সমস্যা, আলসারসহ নানা রোগ।                    

চসিক সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে সেপ্টেম্বরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপন প্রকল্প নেয় স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। ইতিমধ্যে দুই শহরেই ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা ব্যয়ে আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার স্থাপিত হয়। ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর বিবিরহাটে চট্টগ্রামের খাদ্য পরীক্ষাগারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। খাদ্যের ভেজাল শনাক্ত ও গুণাগুণ নির্ণয়ে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে ৮২টি যন্ত্রপাতি স্থাপিত হয়। আধুনিক এই পরীক্ষাগারে দুধ ও দুধ জাতীয় পণ্য, মিষ্টি ও মিষ্টি জাতীয় পণ্য, কার্বনাটেজ ভেবারেজ, জুস জাতীয় পণ্য, ড্রিংকিং ওয়াটার, সস জাতীয় পণ্য, মসলা পণ্য, স্ন্যাকস্ ফুড, বেকারি পণ্য, আইসক্রিম, ড্রাই স্যুপ, নুডলস, পাস্তা, আটা, ময়দা, সুজিসহ ২০ জাতীয় খাবার টেস্ট করা হবে।

বিডি-প্রতিদিন/১২ জুলাই, ২০১৬/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow