Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল, ২০১৭ ১৪:১৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট : ২৭ এপ্রিল, ২০১৭ ১৭:৪৩
রাজধানীর বাসে এবার 'হিজড়াদের' উৎপাত
অনলাইন প্রতিবেদক
রাজধানীর বাসে এবার 'হিজড়াদের' উৎপাত
রাইদা পরিবহনের যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে আদায় করছেন হিজড়ারা। ছবি: শামছুল হক রাসেল।

রাজধানীর গণপরিবহনে এমনিতেই ভাড়া নিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই যাত্রীদের। বলতে গেলে এক প্রকার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের হাতে জিম্মি তারা।

এবার এর সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে হিজড়রা। আগে বাসা-বাড়িতে দল বেঁধে টাকা তুলতে গেলেও এখন আর সেদিকে মন নেই তাদের। বেশি অর্থ আদায়ের চিন্তায় এখন তাদের টার্গেট যাত্রীবাহী বাস। দল বেঁধে সেখানে উঠেই ইচ্ছা মতো টাকা দাবি করছেন তারা, অন্যথায় বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আর সাধারণ মানুষও মান-সম্মানের ভয়ে পকেট থেকে কষ্টের টাকা বের করে দিচ্ছেন এক প্রকার বাধ্য হয়েই। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে যাত্রাবাড়ী, মিরপুর থেকে উত্তরা, মিরপুর থেকে মতিঝিলগামী সিটিং সার্ভিসগুলোতে হঠাৎ হাজির হয়ে ৫ টাকা থেকে শুরু করে ১০/২০ টাকা করে অর্থ তুলছেন তারা।

'হিজড়াদের কেন টাকা দিলেন?' জবাবে রাজধানীর বসুন্ধরা থেকে যাত্রাবাড়ী পথে চলাচলকারী সরোয়ার নামে রাইদা পরিবহনের এক যাত্রী জানান, টাকার চেয়ে মান-সম্মান বড়। তাছাড়া ওদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ নেই। দিতে অস্বীকার করলেই, বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে, এমনকি শরীরেও হাত দেয়।

ওই বাসে উঠা হিজড়াদের প্রশ্ন করেন এই প্রতিবেদক। জানতে চান, 'বাসাবাড়ি ছেড়ে এখন কেন আবার বাসে টাকা তুলছেন?' জবাবে বলেন, বাস থেকে বেশি টাকা পাওয়া যায়।

সরেজমিনে মিরপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হিজড়াদের দেখে অনেক গাড়ির হেলপার দরজা লাগিয়ে দেয়। কিন্তু হিজড়ারা ক্ষোভে গাড়িতে ইট নিক্ষেপ করা শুরু করলে আবার দরজা খুলে দেয়।

শুধু তাই নয়, হিজড়াদের ভয়ে অনেক যাত্রীকে গাড়ি থেকে নেমে যেতে দেখা গেছে। হিজড়ারা চলে গেলে আবারও গাড়িতে উঠেন তারা। এমনই উপায় বের করা সুমন নামের এক যাত্রী বলেন, উপায় নেয়, ধরলেই টাকা দিতে হবে। ছাত্র, চাকরি করি না বললেও তাদের কাছ থেকে পার পাওয়া যায় না।

হিজড়ারা নেমে গেলে অনেক যাত্রী হেলপারকে ধমক দেন। তারা বলেন, দরজা খুললে কেন, 'দরজা না খুললে তারা কি ঢুকতে পারত?' হেলপারের জবাব, না খুললে গাড়ির কাচ ভেঙে দেবে কে?

বিডি-প্রতিদিন/২৭ এপ্রিল, ২০১৭/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

up-arrow