Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল, ২০১৭ ১০:৫৫ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
রাজশাহীর রাস্তায় নর্দমার ময়লা
কাজী শাহেদ, রাজশাহী
রাজশাহীর রাস্তায় নর্দমার ময়লা

রাজশাহী মহানগরীর ঝাউতলা মোড় থেকে রাজপাড়া থানার সামনের সরু সড়কটিতে তীব্র যানজট। রাস্তার পাশের নর্দমা থেকে তুলে রাখা ময়লার স্তূপ।

শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে নর্দমা থেকে তোলা ময়লা, আবর্জনা ও কাদা। এতে এসব সড়কে লেগে থাকছে যানজট। কাদা-ময়লায় শুধু রাস্তা বন্ধ হচ্ছে তা নয়, ছড়াচ্ছে রোগ-জীবাণু। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন নগরবাসী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত এ বর্জ্যের ভিতর কোলিফরম, সালমোনেলা ও সিগেলা জাতীয় ভয়ঙ্কর ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এসব জীবাণু থেকে জটিল রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে শিশু, বৃদ্ধসহ সবার।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) সূত্র জানায়, প্রায় সাত বছর আগে একটি প্রকল্পের আওতায় নগরীর নর্দমাগুলো পরিষ্কার করা হয়। এবার ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে এ কাজ করা হচ্ছে। এ মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা। রাসিকের কর্মকর্তারা বলছেন, বড় রাস্তার পাশের নর্দমা থেকে সরাসরি ময়লা গাড়িতে তুলে ভাগাড়ে ফেলা হচ্ছে। তবে ছোট রাস্তায় গাড়ি না ঢোকায় তা সম্ভব হচ্ছে না। সেগুলো শুকানোর জন্য কয়েকদিন ফেলে রাখা হচ্ছে। নগরীর নিউমার্কেট থেকে গণকপাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের একপাশে প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে নর্দমার ময়লা বর্জ্য তুলে রাখা হয়েছে। নরম কাদা যেন রাস্তায় ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য বালুর বস্তার বেষ্টনী দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দূষিত কাদা শুকিয়ে ধুলা হয়ে বাতাসে উড়ছে। নিঃশ্বাসের সঙ্গে তা শরীরে প্রবেশ করছে। উড়ে বাড়ি-ঘর, দোকানপাটেও যাচ্ছে। দোকানের খাবার-দাবারে পড়ছে। দিনের পর দিন বর্জ্যর স্তূপ পড়ে থাকায় যানবাহন চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম মঞ্জুর হোসেন বলেন, নর্দমার পানিতে অনেক ক্লিনিকের বর্জ্য ফেলা হয়। বাসা-বাড়ি থেকে মানুষের বর্জ্য গিয়েও মেশে নর্দমার পানিতে। এতে কোলিফরম, সালমোনেলা ও সিগেলা জাতীয় ভয়ঙ্কর সব ব্যাকটেরিয়া থাকে। কাদার সঙ্গে এসব ব্যাকটেরিয়া রাস্তায় উঠছে। এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফয়সাল আলম বলেন, নর্দমার কাদার জীবাণুগুলো এত ভয়ঙ্কর, কাদা শুকিয়ে ধুলো হলেও সেগুলো মরে না।

রাস্তার পাশে তুলে রাখা যেসব কাদা ধুলা হয়ে বাতাসে মিশছে, তার সঙ্গে ছড়াচ্ছে রোগ-জীবাণু। রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক দাবি করেন, বড় রাস্তার পাশের নর্দমা থেকে বর্জ্য তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এস্কেভেটরের মাধ্যমে কাদা ট্রাকে তোলা হচ্ছে। কিন্তু যেসব ছোট রাস্তায় এস্কেভেটর যাচ্ছে না, সেখানে নর্দমা থেকে বর্জ্য তুলে শুকানোর জন্য রাখা হচ্ছে।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

আপনার মন্তব্য

up-arrow