Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি, ২০১৮ ১০:১১ অনলাইন ভার্সন
রাজধানীতে ১৪ মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ
জয়শ্রী ভাদুড়ী

রাজধানীতে ১৪ মার্কেট ঝুঁকিপূর্ণ
ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটের তালিকায় রয়েছে মোহাম্মদপুর টাউন হল সুপার মার্কেট ছবি : জয়ীতা রায়

দালানের ইটগুলো আধা ভাঙা, খসে পড়েছে পলেস্তারা। প্রায় প্রতিটি দোকানের পিলার-ছাদে ফাটলের কারণে স্পষ্ট দেখা যায় লোহার রড। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) কারওয়ান বাজারের ১ ও ২ নম্বর ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও এখান থেকে সরছেন না ব্যবসায়ীরা। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নবনির্মিত মার্কেটগুলো প্রস্তুত না হওয়ায় এবং ব্যবসায়ীদের দাবি না মানায় ঝুঁকির মধ্যে ব্যবসা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ডিএনসিসি এলাকার মার্কেট ভবনগুলো পরীক্ষা করে। ডিএনসিসির ৩৬টি মার্কেট ভবনের মধ্যে ১৪টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে ডিএনসিসিকে প্রতিবেদন দেয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে কিছু ভবন পুরোপুরি ভেঙে ফেলার এবং কিছু ভবন ‘রেট্রোফিটিং’ (কাঠামো অক্ষত রেখে সংস্কার) করার সুপারিশ করে বুয়েট। জরুরি ভিত্তিতে ভবনগুলোর ভার কমাতে বলা হয়।

ঝুঁকিপূর্ণ অন্য ভবনগুলো হচ্ছে, গুলশান (উত্তর) পাকা মার্কেট, গুলশান (দক্ষিণ) পাকা মার্কেট, গুলশান (দক্ষিণ) কাঁচা মার্কেট, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেট, খিলগাঁও তালতলা কাঁচা মার্কেট, কারওয়ান বাজার ১ নম্বর ভবন, কারওয়ান বাজার ২ নম্বর ভবন, কারওয়ান বাজার কিচেন মার্কেট, কারওয়ান বাজার কাঁচামালের আড়ত, মোহাম্মদপুর টাউন হল পাকা মার্কেট, মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচা মার্কেট, প্রান্তিক সুপার মার্কেট (গাবতলী), বিজয় সরণির কলমিলতা মার্কেট ও গুলশান ১ নম্বরের ডিএনসিসির কাঁচা মার্কেট। এর মধ্যে গত বছরের ২ জানুয়ারি রাতে আগুনে গুলশান ১ নম্বরের ডিএনসিসির কাঁচা মার্কেটটি ধসে পড়ে। এ মার্কেটটিও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকায় ছিল। বুয়েটের ওই প্রতিবেদনে গুলশান-১ কাঁচা মার্কেট সম্পর্কে বলা হয়েছিল, অপরিকল্পিতভাবে মার্কেটটির তৃতীয় ও চতুর্থ তলা বানানো হয়েছে। মার্কেটের দোতলার দোকানগুলোতে ভার অনেক বেশি। জরুরি ভিত্তিতে মার্কেটের তৃতীয় ও চতুর্থ তলা ভেঙে ভার কমাতে হবে। এর কোনোটিই মানেননি ব্যবসায়ীরা। আগুনে চারতলা ভবনের পুরোটাই ধসে পড়ে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া বলেন, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার সভা হয়েছে। তবে তারা এই ঝুঁকিপূর্ণ মার্কেটগুলো থেকে ব্যবসা সরিয়ে নিতে রাজি হননি।

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, মহাখালী ও গাবতলী মার্কেটের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও তা চালুর উপযোগী নয়। এ দুই মার্কেটে ব্যবসায়ীরা এখনই যেতে পারেন। কিন্তু আমিনবাজারের সঙ্গে দুটি সংযোগ সড়ক তৈরির দাবি তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। মহাখালী বাজারের একমুখী চলাচলের পরিবর্তে দ্বিমুখী চলাচলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ ছাড়া মহাখালী মার্কেটে ছোট আকারের দোকানে তারা যেতে চান না। কারওয়ান বাজারে পাওয়া দোকানের মতো বড় দোকান চান তারা। কারওয়ান বাজারে দোকান ছেড়ে নতুন মার্কেটে দোকান নিতে জামানতের অর্থ বা সেলামি দিতে রাজি নন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে নতুন মার্কেটে দুই বছরের ভাড়া মওকুফের শর্ত দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ডিএনসিসি পাকা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি তালাল রিজভী বলেন, আমরা এখানে ৪০০ বর্গফুটের দোকানে ব্যবসা করছি অথচ নতুন মার্কেটে আমাদের দেওয়া হচ্ছে ১২০ বর্গফুটের দোকান। এতো ছোট দোকানে পাইকারি মাল কীভাবে রাখব আমরা? অগ্রিম বরাদ্দসহ যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে তা মেনে নিলে আমরা মামলা প্রত্যাহার করব।

ডিএনসিসি সূত্র জানায়, সাদেক হোসেন খোকা মেয়র থাকাকালে করপোরেশন বেশ কয়েকটি মার্কেট ভেঙে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন করার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিকে অসম আখ্যা দেন। তারা নতুন ভবন নির্মাণের সময় পুনর্বাসনের নিশ্চয়তা এবং নতুন ভবনে চাহিদামতো জায়গা পাওয়ার দাবিতে একাধিক মামলা করেন। অন্যদিকে কাজ করতে পারার নিশ্চয়তা চেয়ে ঠিকাদাররাও মামলা করেন। মার্কেট ভবন নিয়ে ১১টি মামলা চলছে। সব কটি মামলাই সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে এবং এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ ব্যাপারে ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া বলেন, এটা ঠিক যে সিটি করপোরেশনের মার্কেট তৈরিতে অনেক সময় লাগছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে নিয়ে দোকানের আকার বড় করার কাজ প্রায় শেষের দিকে। আসলে বর্তমান ব্যবসার জায়গা ছেড়ে দিয়ে নতুন মার্কেটে যেতে ব্যবসায়ীরাও তেমন আগ্রহী নয়।

আপনার মন্তব্য

এই পাতার আরো খবর
up-arrow