Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০১৮ ১০:১২ অনলাইন ভার্সন
মাথা তুলেছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
জয়শ্রী ভাদুড়ী
মাথা তুলেছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় পুরোদমে চলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ ছবি : জয়ীতা রায়
bd-pratidin

বিমানবন্দর যাওয়ার পথে কুড়িল বিশ্বরোড পার হলেই চোখে পড়বে বিশাল কর্মযজ্ঞ। রেললাইনের পাশ দিয়ে উঁচু দেয়াল পার হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শুরু করেছে পিয়ারগুলো। বছরের শুরু থেকেই দ্রুত কাজ শেষ করতে দিন-রাত খেটে চলেছেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী এবং শ্রমিকরা। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম অংশ (বিমানবন্দর-বনানী) এরই মধ্যে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৩০টি পিয়ারের কাজ। দ্রুততম সময়ে দ্বিতীয় (বনানী-তেজগাঁও) ও তৃতীয় অংশ (মগবাজার-কুতুবখালী) দৃশ্যমান করতে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এই প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হলে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টের যানজট এড়িয়ে মাত্র ৪০ মিনিটে পৌঁছে যাওয়া যাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালীতে। শুধু তাই নয়, নগরীর বিভিন্ন অংশে পৌঁছা যাবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে।

অগ্রগতি বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কাজী মুহম্মদ ফেরদৌস বলেন, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কাজ প্রায় ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। পাইলিং, পিয়ার, ক্রসবিম বসানোর কাজ চলছে সমানতালে। এতদিন মাটির নিচে কাজ করা হয়েছে। ভিত্তির কাজ শেষ হওয়ায় এখন দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে প্রকল্প। ২০২০ সালের মধ্যে এটা চালু করার টার্গেট নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।

গতকাল সরেজমিন প্রকল্প এলাকার খিলক্ষেত অংশে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের কাঠফাটা রোদে কোথাও চলছে ঢালাই, কোথাও ক্রসবিম বসানোর জন্য পিয়ারের ওপরের অংশে কাজ করছেন শ্রমিকরা। দিকনির্দেশনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রকৌশলীরা। ক্রসবিম বসানোর জন্য পিয়ারের কাজকে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে দ্রুতগতিতে। এক্সপ্রেসওয়ের প্রথম অংশের ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটারের এ অংশে মোট ২৩৩টি পিয়ার হবে। এরই মধ্যে উঠেছে ৩০টি। আংশিক কাজ হয়েছে আরও ৪০টির। নির্মাণ কাজের জন্য আনা হয়েছে ভারী যন্ত্রপাতি। বিমানবন্দরের সামনে প্রি-কাস্ট ইয়ার্ড তৈরি করা হয়েছে। ওই ইয়ার্ডে এক্সপ্রেসওয়ের গার্ডার তৈরি হচ্ছে। পরে তা নিয়ে মূল কাঠামোর সঙ্গে জোড়া দেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নির্মাণাধীন চার লেনের এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মূল লেনের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এ ছাড়া ৩১টি র‌্যাম্পের দৈর্ঘ্য ২৭ কিলোমিটার। র‌্যাম্পসহ মোট দৈর্ঘ্য ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। তিন ভাগে বিভক্ত প্রকল্প এলাকার প্রথম অংশে বিমানবন্দর-বনানী পর্যন্ত ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার, দ্বিতীয় অংশে বনানী-মগবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার এবং তৃতীয় অংশে মগবাজার-কুতুবখালী পর্যন্ত ৬ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২ হাজার ৪১৩ কোটি টাকা দেবে সরকার। বাকি টাকা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইতাল-থাই বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পের জন্য মোট ২২০ দশমিক ১৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে ২৫ বছর পর্যন্ত টোল আদায় করবে ইতাল-থাই। এরই মধ্যে এ প্রকল্পে ইতাল-থাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের সিনো হাইড্রো করপোরেশন। সরকারের সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (আরএসটিপি) তথ্যানুযায়ী, বাস্তবায়নের পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮০ হাজার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। পুরো এক্সপ্রেসওয়েতে থাকবে ১১টি টোল প্লাজা, এর মধ্যে পাঁচটি হবে এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে।

উল্লেখ্য, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি ইতাল-থাইয়ের সঙ্গে প্রথম চুক্তি করে সেতু বিভাগ। সে বছর ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিত্তি স্থাপন করেন।

তবে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতায় কাজ আটকে থাকে দুই বছর। এরপর নকশা বদল ও অন্যান্য কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে হয়।

আপনার মন্তব্য

up-arrow