Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০১৫ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ মে, ২০১৫ ০০:০০
সেই বড়াল নদ এখন সরু খাল
সেই বড়াল নদ এখন সরু খাল

‘একসময় এই নদে পালতোলা নৌকা ভিড়ত। পণ্য নিয়ে আসা নৌকাগুলোকে ঘিরে রোজগার হতো মানুষের। মাছ ধরেও চলত অনেকের সংসার। এখন নদে ধান চাষ হয়। দুই পাশে দখলে বড়াল এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে। ’ কথাগুলো বলছিলেন গোপালপুরের জবদুল মাঝি।
একসময় রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার পদ্মার শাখা বড়াল নদ ছিল টইটুম্বর। এখানে মাছ ধরে সংসার চালাতেন আশপাশের মানুষ। সেই দিন ক্ষীণ হয়ে আসে ১৯৮০ সালের দিকে। স্লুইস গেট দেওয়ার পর বড়াল তার খরসে াতা রূপ হারায়। আর এখন দখলদারদের করাল গ্রাসে বড়াল পরিণত হয়েছে সরু নালায়।
২০১০ সালে নদ খননের নামে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নেওয়া ১৩ কোটি টাকার প্রকল্প কোনো কাজে আসেনি। নদ খনন করে সেই বালু নদে স্তূপ করে রাখার কারণে বন্যার পানিতে তা আবার নদে ফিরে যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ‘বড়াল বেসিন প্রকল্প’ নামে বিভিন্ন অবকাঠামোসহ নদ খননকাজ শুরু করে। প্রকল্পটির কাজ শেষ হয় ২০০৪-০৫ অর্থবছরে। এ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন রেগুলেটর, অবকাঠামো, খাল ও নদ পুনঃখননের জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ২০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করে মূল্য বাবদ ৭৬ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ভূমি মালিকদের পরিশোধ করেছে। তারপরও নদতীরবর্তী এলাকা দখলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়রা জানান, বড়াল নদের আশপাশে যারা বসবাস করছেন, তারা নদ দখল করে সেখানে ধান চাষ করেন। প্রভাবশালীরাও আছেন এ তালিকায়। ফলে মূল পদ্মা থেকে পানি যাতে বড়ালে আসতে না পারে সেজন্য মাটি ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় রায়হান আলী জানান, বড়ালে এখন ধান চাষ হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় দিন দিন বড়াল দখল হচ্ছেই। সরু নালার মতো এখন যেটুকু আছে, তা রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, বড়ালে পদ্মার পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ঠিক রাখতে এবং নাব্য ফিরিয়ে আনতে ২০০৮-০৯ অর্থবছরে ‘নাটোরের নারদ ও মুসা খান (আংশিক) নদ এবং রাজশাহীর চারঘাটের রেগুলেটরের ইনটেক চ্যানেল খনন’ নামে ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
প্রায় ১৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার নদ খনন ও প্রবেশমুখে খনন করতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে চারঘাট বড়াল নদের ইনটেক চ্যানেল খননকাজ শেষ হয়। ইনটেক চ্যানেল খননকাজ হলেও বর্ষায় বড়ালে পানি আসেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়সারা কাজ করার কারণে নদ থেকে খনন করা বালু আবার নদে চলে গেছে। মুংলি এলাকার মনোয়ার হোসেন জানান, ৩৪ বছর আগে এ বড়াল নদের ওপর অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত একটি স্লুইস গেটের কারণে আশির দশক থেকেই নদটি মরতে বসে। অথচ স্লুইস গেটটি এখন আর কোনো কাজেই আসে না। খননে টাকা ব্যয় করলেও এ স্লুইস গেটটি অপসারণের কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদের নাব্য ফিরে আসেনি। এ সুযোগে বড়ালের দখল নিয়েছে প্রভাবশালীরা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow