Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৬ জুলাই, ২০১৫ ০০:০০
ইউরোপে পাট রপ্তানির সুযোগ হারাচ্ছে দেশ
লন্ডনে বাংলাদেশ দূতাবাসে অভিযোগ

ইউরোপের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রাইজফ্লেক্স প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের পাট ক্রয় করে। এ দেশের পাটের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির সন্তুষ্টিও রয়েছে। তবে মূল সমস্যা হচ্ছে অন্য জায়গায়। পাট আমদানির জন্য বিভিন্ন তথ্য চেয়ে ইউরোপীয় ক্রেতারা যখনি বিজেএমসি (বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা সদুত্তর পায় না। পেলেও সে প্রক্রিয়ার গতি অত্যন্ত ধীর। লন্ডনের বাংলাদেশ দূতাবাসে গিয়ে এ ধরনের অভিযোগ করেছেন প্রাইজফ্লেক্স-এর চেয়ারম্যান মি. প্রদীপ রায়হাটা। শুধু তাই নয়, বিজেএমসির বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে তার। প্রদীপ রায়হাটার অভিযোগ হচ্ছে- তার প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি নির্দিষ্ট পরিমাণ পাটপণ্য নেওয়ার জন্য বিজেএমসির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। চুক্তির ওপর নির্ভর করে তারা আর্জেন্টিনার আরেক প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলারের পাট পণ্য সরবরাহের চুক্তি করে। তবে বিজেএমসি নির্দিষ্ট সময়ে ওই পাট পণ্য সরবরাহ করেনি। উপরন্তু ২ মার্চ তাদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়, কাঁচা পাটের সংকটের কারণে তারা (বিজেএমসি) চুক্তি অনুযায়ী পণ্যটি সরবরাহ করতে পারছে না।

এ ধরনের হয়রানির বিষয়ে বিজেএমসিকে সতর্ক করে দিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রদীপ রায়হাটা বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের যে আইন ও রীতি-নীতি রয়েছে তার পরিপন্থী। অভিযোগের এ বিষয় উল্লেখ করে ২৯ মে পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠান লন্ডনের বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্সিয়াল কাউন্সিলর শরীফা খানম। মন্ত্রণালয়ের সচিবকে তিনি অভিযোগ খতিয়ে দেখে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। চিঠিতে শরীফা খানম বলেন, আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক রীতিতে পণ্য সংগ্রহ করে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তা সরবরাহ করে থাকেন। ফলে যখন তারা কোনো পণ্য সংগ্রহ করতে চান তখন সে পণ্যের স্থানীয় দর সম্পর্কেও নিশ্চিত হতে চান। কিন্তু বিদেশি ক্রেতারা বাংলাদেশের পাট বা পাট পণ্যের দর সম্পর্কে জানতে চাইলে এর উত্তর দিতে অন্তত ৭ থেকে ৮ দিন সময় নেয় বিজেএমসি। ইউরোপে পাট রপ্তানির ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্রাইজফ্লেক্স-এর সঙ্গে চুক্তিভঙ্গের বিষয়ে বিজেএমসির ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) জাকির হোসেন খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তারা এর জবাব পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। তবে বিজেএমসির জবাব মন্ত্রণালয় দুটির কাছে সন্তোষজনক মনে হয়নি বলে তাদের অবহিত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জাকির হোসেন বলেন, পাট পণ্য নেওয়ার ক্ষেত্রে ক্রেতা কোম্পানিরও অবহেলা ছিল। চুক্তির পর আমরা যখন পণ্য সরবরাহের ব্যাপারে প্রাইজফ্লেক্সে সঙ্গে যোগাযোগ করি তখন তারা সময়মতো রিপ্লাই দেয়নি। পরে স্থানীয় বাজারে কাঁচাপাটের সংকট দেখা দেয়। পাটের দাম জানতে চাইলে ৭ থেকে ৮ দিন সময় লাগার অভিযোগ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা বলেন, আগে এ সমস্যা ছিল, এখন নেই। এখন ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে তারা বিদেশি ক্রেতাদের তথ্য সরবরাহ করে থাকেন বলে জানান।

 

 

এই পাতার আরো খবর
up-arrow