Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ৪ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুন, ২০১৬ ২৩:২০
বিশ বছর অন্ধকারে চসিক পোর্ট সিটি হাউজিং প্রকল্প
মেয়রের চিঠি নতুন আশা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) পোর্ট সিটি হাউজিং সোসাইটি প্রকল্পটি ২০ বছর ধরে অন্ধকারে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। ফলে প্লট বরাদ্দ পাওয়া ৫০ গ্রাহক গভীর হতাশায় ভুগছেন। এ অবস্থায় সমস্যাটির সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন চসিক মেয়র। এরপরই প্রকল্প নিয়ে নতুন আশার আলো দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। জানা গেছে, প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে দুটি মামলা ঝুলছে। এর মধ্যে চসিক মামলা করেছে জায়গা বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগে। আর রেল করেছে প্রকল্পের স্থাপনা উচ্ছেদ করতে। এ অবস্থায় চসিক মেয়র রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলেছেন। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, কর আদায়সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে প্রকল্পটি আটকে ছিল। কিন্তু এখন এ ব্যাপারে একটি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দুই পক্ষের সমঝোতায় সব জটিলতা কেটে যাবে।

চসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ১৬ অক্টোবর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল নগরীর মাদারবাড়ী এলাকার ৭ দশমিক ২৪ একর ভূমি বিক্রির দরপত্রে অংশ নিয়ে চসিক সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ১৩ কোটি ৯৩ লাখ ২১ হাজার ২২০ টাকা ৬০ পয়সায় ভূমিটি বরাদ্দ পায়। পরে চসিক দুই কিস্তিতে ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৩০ হাজার ৩৩০ টাকা রেলকে প্রদান করে। ওই সময়ই রেলের কাছে চসিকের কর বাবদ ৬৩ কোটি টাকা পাওনা ছিল। চসিক সে টাকা ভূমির সঙ্গে সমন্বয় করতে প্রস্তাব দিলে রেল তাতে অসম্মত হয়। এর মধ্যে চসিক ওই প্রকল্পে ২ কোটি ২০ লাখ টাকার উন্নয়নকাজ করে। তা ছাড়া ২০০২ সালের ১০ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন দফায় প্রকল্পে আড়াই কাঠা করে ৫০ জনের কাছে ৫০টি প্লট বিক্রি করে। প্রতি কাঠার মূল্য ছিল ১০ লাখ টাকা। কিন্তু ২০০৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বরে টাকা না দেওয়ার অভিযোগে রেলওয়ে প্রকল্পের বরাদ্দ বাতিল করে। ২০০৪ সালে রেলের বরাদ্দ বাতিলের বিরুদ্ধে আদালতে রিট পিটিশন করে চসিক। আদালত চসিকের শান্তিপূর্ণ দখলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং ভূমিটি অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষ বরাবর বিক্রি না করার জন্য রেলের ওপর রুল জারি করে।

একাধিক প্লট গ্রহীতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি ঝুলে আছে। তবে আমরা শুনেছি সিটি মেয়র এ ব্যাপারে একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। এখন যদি এটি আলোর মুখ দেখে তাহলে আমাদের প্লটের একটি গতি হবে।

রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আবদুল বারি জানান, তিনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে রেলওয়ের মহাপরিচালককে  চিঠি দিয়েছেন। বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow