Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৯ জুন, ২০১৬ ২২:২৯
গতি ও সেবার মান উন্নত হওয়ায় বেড়েছে রাজস্ব
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিস
সাইদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে গতি ও সেবার মানের পাশাপাশি বেড়েছে রাজস্বও। একই সঙ্গে দায়িত্বশীলদের আন্তরিক সেবার ভূমিকায় দালালমুক্ত হয়েছে অফিস। বাইরে দেয়ালে টাঙানো হয়েছে নতুন পাসপোর্ট বানানোর যাবতীয় নিয়ম-কানুনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য। রয়েছে নমুনা আবেদন ফরমও। অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য আছে হুইল চেয়ার। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি কাউন্টারে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রতিরোধে রয়েছে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সরাসরি মনিটরিং। এতে গড়ে প্রতিদিন নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০। একই পরিমাণ পাসপোর্ট আবেদন জমাও নেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামের মনছুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসে সরেজমিনে গিয়ে এসব চিত্র দেখা যায়। এর আগে পাসপোর্ট অফিসের ভিতরে-বাইরে ছিল দালালদের একচ্ছত্র আধিপত্য। দালালদের সঙ্গে আঁতাত ছিল একশ্রেণির দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসার সদস্যের। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল, ২০১৬ পর্যন্ত চার মাসে এ অফিসের রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট জমা হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার, আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে ৩১ হাজার এবং তৈরি পাসপোর্ট বিতরণের অপেক্ষায় আছে প্রায় ১ হাজার ৮০০। এপ্রিলেই রাজস্ব আয় হয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকার ওপরে। একজন ক্যান্সার রোগীর জন্য পাসপোর্ট করতে আসা সাজেদা বেগম বলেন, ‘নিজেই আবেদন ফরম পূরণ করে জমা দিতে এসেছি। অফিসের স্টাফরা এসব কাজে অনেক সহযোগিতা করেছেন। আশা করছি পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়ে চলে এলেই দ্রুত পাসপোর্ট পেয়ে যাব। এর আগে দালালদের সহযোগিতা ছাড়া পাসপোর্ট করতে পারিনি। কর্মচারীরা দালাল ছাড়া কাউকে পাত্তাই দিতেন না। তিন হাজার টাকার পাসপোর্ট বেশি টাকা দিয়েও বানাতে হয়েছে।’

পাসপোর্ট নিতে আসা সবুর শুভ বলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের বাইরে আবেদনকারীর জন্য সব নির্দেশিকা দেয়ালে টাঙানো আছে। এক বছর আগে পাসপোর্টসংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে শীর্ষ কর্মকর্তার দফতরে যেতে পারতাম না কেউ। বর্তমানে যে কোনো সমস্যার বিষয়ে অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আবু সাঈদ সরাসরি মনিটরিং করছেন। তাত্ক্ষণিক সমাধানও দিচ্ছেন। ছবি তোলা, স্বাক্ষর ও অন্যান্য কাজেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন না কেউ। একই কথা বললেন আগ্রাবাদ থেকে আসা শফিকুল ইসলামও।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের উপ-পরিচালক মো. আবু সাঈদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীদের যথাযথ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। বয়স্ক ও অসুস্থদের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আপসহীন কঠোরতা অবলম্বনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসকে সম্পূর্ণভাবে দালালমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। এর পরও কোনো ধরনের অভিযোগ থাকলে তত্ক্ষণাৎ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এই পাতার আরো খবর
up-arrow