Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শনিবার, ১১ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১০ জুন, ২০১৬ ২২:৪৪
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি ওষুধ বাইরে পাচার
কাজী শাহেদ, রাজশাহী
সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি ওষুধ বাইরে পাচার

সরকারি ওষুধ। বিনামূল্যে পাওয়ার কথা রোগীদের। কিন্তু রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশন নিয়ে ছোটেন ফার্মেসিতে। সরকারিভাবে সরবরাহ থাকলেও বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে রোগীদের। দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (রামেক) থেকে ওষুধ পাচারে কাজ করছে একটি চক্র। র‌্যাবের কয়েক দফা অভিযানে এ চক্রের সদস্য আবদুল ওয়াহেদ গ্রেফতার হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসেন উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মানুষ। অতিপ্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়ার কথা তাদের। কিন্তু তা পাচ্ছেন না। নগরীর ছোট বনগ্রাম এলাকার লাভলী বেগম জানান, কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন হাসপাতাল থেকে দেওয়ার কথা। কিন্তু চিকিৎসক তাকে প্রেসক্রিপশন ধরিয়ে দিয়েছেন। তিনি তা বাইরে থেকে কিনতে যাচ্ছেন। খালিদ ইমরোম নামে আরেক রোগীর স্বজন জানান, তার বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ওষুধ দেওয়া হয়নি। তাকে প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বলা হয়েছে। রোগীদের নামে বরাদ্দ হওয়া সেই সরকারি ওষুধ বাইরে চলে যাচ্ছে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। সেগুলো বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ফার্মেসিতে। মাদকের বিনিময়ে সেই ওষুধ পাচার হচ্ছে ভারতেও। র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহাবুব আলম জানান, তাদের কাছে তথ্য আছে হাসপাতাল থেকে ওষুধ নিয়ে সেগুলো মাদকের বিনিময়ে ভারতে পাচার করে থাকেন এ চক্রের সদস্যরা। র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, আগে থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধের তালিকা ও আগাম টাকা দিয়ে আসার পর হাসপাতালের ভাণ্ডার শাখার লোকজন তাদের ওষুধ সরবরাহ করে থাকেন। র‌্যাব অধিনায়ক আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওষুধ সংগ্রহ করে সেগুলো বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে চড়া দামে। এ চক্রটির সদস্যরা মাঝে মাঝে গ্রেফতার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারও তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই এখন ফার্মেসি মালিক ও সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে, যাতে সরকারি ওষুধ তারা টাকা দিয়ে না কেনেন। কয়েক দফায় ওষুধ পাচার সিন্ডিকেটের সদস্যরা গ্রেফতার হয়ে জামিনে বেরিয়ে আবারও জড়িয়েছেন এ কাজে। কিন্তু রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওষুধ চুরি ঠেকাতে তেমন কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। তবে ওষুধ চুরি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতির।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow