Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭

ঢাকা, রবিবার, ২০ আগস্ট, ২০১৭
প্রকাশ : রবিবার, ১২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১২ জুন, ২০১৬ ০১:৫৭
হাজারীবাগ ট্যানারি স্থানান্তর অনিশ্চিত
আজ বিসিকে অগ্রগতি বৈঠক
মোস্তফা কাজল

হাজারীবাগের ট্যানারি সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে স্থানান্তরের নির্দেশনা থাকলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বারবার আলটিমেটাম আর সময় বাড়ানোর মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে এই স্থানান্তর।

সর্বশেষ গত জানুয়ারিতে ট্যানারি স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করতে ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তখন ট্যানারি স্থানান্তরের সুযোগ না থাকায় নতুন করে এক মাস সময় বাড়ানোর দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে দফায় দফায় চলছে সময় বৃদ্ধি। আলটিমেটামের পরে পাঁচ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত ট্যানারি স্থানান্তর শুরু হয়নি। এর আগে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ট্যানারি স্থানান্তরের সময় বেঁধে দেয় সরকার। ওই সময়ের মধ্যে কারখানা স্থানান্তর করতে ব্যর্থ হলে মালিকদের নামে বরাদ্দকৃত প্লট বাতিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এর আগেও কয়েকবার আলটিমেটাম দেওয়ার পরও ট্যানারি মালিকরা কারখানা সরাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এ কারণে ট্যানারি মালিকদের উকিল নোটিস দেওয়া হয়। এতকিছুর পরেও টনক নড়ছে না ট্যানারি মালিকদের। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি জুন মাসে শেষ হতে যাচ্ছে চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের মেয়াদ। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে ১৩ বছর ধরে জটিলতা চলছে। এ অবস্থায় আজ বিসিক কার্যালয়ে ট্যানারি স্থানান্তর ও নির্মাণ কাজের মনিটরিং কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। এই সভায় ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব উঠানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাভারে ২০০ একর জমিতে ২০৫ প্লটে হাজারীবাগের ১৫৫ ট্যানারি স্থানান্তরের কথা। এর মধ্যে ১২টি ছাড়া সব ট্যানারির অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ করেই হাজারীবাগ থেকে যন্ত্রপাতি স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। একই সঙ্গে স্থাপন করা হবে নতুন যন্ত্রপাতি। এ পর্যন্ত ১০টির মতো ট্যানারি যন্ত্রপাতি স্থাপন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অনেক ট্যানারিতে স্থাপনের জন্য নতুন যন্ত্রপাতি আমদানি প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসঙ্গে ১৭টি ট্যানারি বিদ্যুৎ সংযোগ চেয়ে আবেদন করেছে।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহীন আহমেদ বলেন, ট্যানারি স্থানান্তরের জন্য সবাই কাজ করছেন। তবে স্থানান্তর করতে আরও সময়ের প্রয়োজন হবে। আগামী আগস্টের মধ্যে ১৫টি ট্যানারি স্থানান্তর হতে পারে। ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, এ প্রকল্পের মেয়াদ আরও বাড়াতে হবে। ট্যানারি মালিকদের যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ট্যানারি মালিকরা অবিরাম কাজ করছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সবাই যেতে পারবেন। তিনি এই সময় পর্যন্ত ট্যানারি স্থানান্তরে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান।

প্রকল্প পরিচালক আবদুল কাইয়ুম বলেন, এখন পর্যন্ত শিল্পনগরীর ১৮টি ট্যানারি বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে টাকা জমা দিয়ে আবেদন করেছে। এর মধ্যে দুটি ট্যানারিকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যগুলো কয়েক দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে। এ ছাড়া ৩০ জুনের মধ্যে ২০টির মতো ট্যানারি স্থানান্তর হতে পারে। অন্যান্য ট্যানারির কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। তবে ট্যানারির কাজ শেষ না হলেও চীনা প্রতিষ্ঠানের সিইটিপি নির্মাণ হলে প্রকল্প শেষ করা হবে। ট্যানারি স্থানান্তর করার দায়িত্ব মালিকদের। তারা ট্যানারি না সরালেও হাজারীবাগের সব সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করা হবে। প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কাঠামো নির্মাণকাজ চলতি জুনের মধ্যে শেষ হবে। পাশাপাশি দুটি মডিউলের ইলেকট্রোমেকানিক্যালের কাজও জুনের মধ্যে শেষ করে চালু করা হবে। এ দুটি মডিউল চালু হলে ৪৮ থেকে ৫০টি ট্যানারির বর্জ্য পরিশোধন করা সম্ভব হবে। পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে বাকি দুটি মডিউলের কাজ শেষ হবে। এ ছাড়া বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া (এসপিজিএস) স্থাপনের জন্য মেয়াদ বাড়াতে হবে। এ জন্য বিসিক নতুন করে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দেবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow