Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ জুন, ২০১৬ ২৩:০৭
ধর্মঘটের মধ্যেই গেটে তালা রোগীর স্বজনকে মারধর
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
ধর্মঘটের মধ্যেই গেটে তালা রোগীর স্বজনকে মারধর

বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে ধর্মঘট পালনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত হাসপাতালের সবকটি প্রবেশ গেট ও জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের কক্ষে তালা লাগিয়ে গোটা হাসপাতাল অবরুদ্ধ করে রাখে তারা।

রোগীর এক স্বজন বাধা উপেক্ষা করে বাহির থেকে হাসপাতালে প্রবেশ করায় তাকে বেদম মারধর করে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অরাজকতায় দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র শেবাচিম হাসপাতালে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরা। এ অবস্থায় আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়ে ধর্মঘট স্থগিত করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দেড় শতাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসক গতকাল দুপুর ১২টার পরে হাসপাতালের মধ্যে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ সবকটি প্রবেশ গেটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। একই সময়ে হাসপাতালের পরিচালকসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় তারা। ফলে হাসপাতালের রোগী, স্বজন ও দর্শনার্থীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। জরুরি বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় কয়েকজন মুমূর্ষু রোগী নিয়ে স্বজনদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এ সময় বাইরে থাকা এক রোগীর স্বজন নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা মো. বাহাদুর বাধা উপেক্ষা করে প্রধান ফটক (মাঝের গেট) দিয়ে ভিতরে ঢুকলে তাকে মারধর করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ফটো সাংবাদিকরা মারধরের ছবি তুলতে গেলে তাদেরও বাধা দেওয়া হয় এবং সাংবাদিক ও সংবাদপত্র সম্পর্কে কটাক্ষ করা হয়। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এসব অসদাচরণ সম্পর্কে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এসএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনকারীরা সবগুলো গেটে তালা লাগালে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করা হয়। আজ বেলা ১১টায় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সভা হবে। এ কারণে বেলা ১১টা পর্যন্ত ধর্মঘট স্থগিত করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলে অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে গত শনিবার সকাল ১১টা থেকে অবিরাম কর্মবিরতি শুরু করে ইন্টার্ন চিকিৎকরা। অভিযুক্ত পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জ থানার এসআই মনোজ কুমারকে গত রবিবার জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড (প্রত্যাহার) করা হলেও তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে এমন দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখে তারা।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow