Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ১৫ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৫ জুন, ২০১৬ ০২:৪১
১০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

রাজধানীতে পৃথক তিনটি অভিযানে পচা-বাসি খাবার, ভেজাল জুস ও নকল ওষুধ কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ১০টি প্রতিষ্ঠানসহ এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল দিনব্যাপী র‌্যাব-১, র‌্যাব-৩, এপিবিএন-৫, ঢাকা জেলা প্রশাসন এবং বিএসটিআইর যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানগুলো পরিচালনা করেন র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম, ঢাকা জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা করিম ও র‌্যাব-১ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ আহমেদ।

পচা-বাসি খাবার : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, খিলগাঁওয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, বাসি ও পচা খাবার বিক্রির অপরাধে ৫টি রেস্টুরেন্টকে ৩ লাখ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চায়না পার্ক রেস্টুরেন্টে অত্যন্ত নোংরা ও ময়লাযুক্ত ফ্রিজে মাংস সংরক্ষণ করা হয়েছে, যার বেশকিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য একটি ফ্রিজে কয়েক দিনের পুরনো অবিক্রীত চিকেন ফ্রাই রাখা হয়েছে। রান্না করার স্থানটি অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। এ ছাড়া রান্না করা চাইনিজ রাইসে পড়ে রয়েছে তেলাপোকা ও পোকামাকড়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ক্যাফে বৈশাখী রেস্তোরাঁতে কয়েক দিন আগের বাসি কাবাব, জিলাপি ও চপ ইফতারিতে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছে। বাসি ময়দার মিশ্রণ দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে জিলাপি। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। চাইনিজ অল রেস্তোরাঁর মেঝেতে অত্যন্ত নোংরা ও ময়লাযুক্ত কাপড়ে ছড়িয়ে রাখা হয়েছে সদ্য রান্না করা চাইনিজ রাইস। বিক্রির উদ্দেশে সংরক্ষণ করা হয়েছে কয়েক দিন আগের উচ্ছিষ্ট চিকেন ফ্রাই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অপরাধে গোল্ডেন গেইটকে ৪০ হাজার টাকা এবং আল মুসলিম রেস্টুরেন্টকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভেজাল জুস : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা করিম বলেন, তেজগাঁওয়ের তৃপ্তি ফুড প্রোডাক্টসে বিএসটিআইর লাইসেন্স ছাড়া কাপড়ে ব্যবহৃত রং, ক্ষতিকারক কেমিক্যাল ও অপরিশোধিত পানি ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে জুস। পরে এগুলো বাজারজাত করা হচ্ছে। পরে কারখানায় তৈরি বিপুল পরিমাণ নকল জুস জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়া মিরপুরে আমির কনফেকশনারি অ্যান্ড জেনারেল স্টোরে বিএসটিআইর ছাড়পত্র থাকলেও অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিপণন করে আসছে। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক আমিরুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নকল ওষুধ : নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফিরোজ আহমেদ বলেন, পুরান ঢাকার বাবুবাজারে হাজী রানী মেডিসিন মার্কেটে অভিযান চালানো হয়েছে। এ সময় নকল ওষুধ মজুদ ও বিক্রির অপরাধে নুসরাত মেডিকেল কর্নারের মালিক মঞ্জুরুল কবিরকে দেড় বছর কারাদণ্ড; একই অপরাধে মাহী মেডিসিন কর্নারের মালিক সাইফুল ইসলাম ও কর্মচারী আনোয়ার হোসেনকে এক বছর করে কারাদণ্ড এবং গুড হেলথ মেডিসিন কেয়ারকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।




up-arrow