Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৫ জুন, ২০১৬ ২৩:২২
বিচার নিয়ে বিপদে বিচারক!
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

পারিবারিক একটি মামলা মীমাংসা করতে গিয়ে বিচারক নিজেই বিপদে পড়েছেন। এ কারণে শঙ্কিত হয়ে বিচারক চট্টগ্রামের জেলা জজের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠিও দিয়েছেন। নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত ওই বিচারক হলেন চট্টগ্রামের জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী জজ) ফারহানা ইয়াসমিন। পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা সংক্রান্ত একটি মামলায় এ ঘটনা ঘটে। বিচারকের নিরাপত্তায় ইতিমধ্যে একজন পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। বিচারক ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, রাবেয়ার তিনটি সন্তান আছে। তিন সন্তানকে নিজের হাতে খুন করে ওই খুনের জন্য আমাকে (বিচারক) দায়ী করে চিরকুট লিখে যাবেন বলে হুমকি দিয়ে লিগ্যাল এইড অফিস থেকে বেরিয়ে যান। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আমি বিব্রত, আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীন বোধ করছি। তিনি বলেন, অভিযোগকারীকে বোঝানোর চেষ্টা করলে তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে অযাচিত ভাষায় হুমকি প্রদান করেন। তাই এ ব্যাপারে নিরাপত্তা চেয়ে আমি জেলা জজের কাছে চিঠি লিখেছি।  লিগ্যাল এইডের অফিস সহকারী মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম বলেন, বিচারক, লিগ্যাল এইড অফিস এবং ওই মহিলার তিন সন্তানের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা জজ পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। তা ছাড়া ইতিমধ্যে লিগ্যাল এইড অফিসের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, নগরীর কামাল গেট এলাকার বাসিন্দা রাবেয়া বেগম ও ফিরিঙ্গি বাজার এলাকার মোহাম্মদ সাফায়েত হোসেন প্রেম করে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে আছে তিন সন্তান। পরে সম্পর্কের অবনতি হলে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। কিন্তু রাবেয়া তার স্বামী ও অন্যদের বিরুদ্ধে একটি নারী ও শিশু নির্যাতম দমন আইনে ও ২টি সিআর মামলা দায়ের করেছিলেন। ২০১৪ সালের ১২ মে সাফায়েত রাবেয়াকে তালাক দেন। তবে সাফায়েতের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়।  এর পরিপ্রেক্ষিতে সাফায়েতের কাছে নোটিস পাঠায় লিগ্যাল এইড। গত মঙ্গলবার উভয়ে নিজেদের তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন। একপর্যায়ে সাফায়েতের পক্ষ থেকে দেনমোহর ও ভরণপোষণ বিষয়ে মীমাংসার প্রস্তাব রাখলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় রাবেয়া সংসার ছাড়া কিছুই করবে না বলে বিচারককে জানান। উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্যুদ্ধকালে রাবেয়া বেশ উত্তেজিত হয়ে যান। পরে রাবেয়া উল্টো বিচারকের ওপর ক্ষিপ্ত হন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow