Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : শুক্রবার, ১৭ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ১৬ জুন, ২০১৬ ২৩:৩৪
চার হাজার পুকুর ভরাট মামলা মাত্র পাঁচ
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে গত ৫০ বছরে চার হাজার পুকুর ভরাট হয়েছে। রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালীরা প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় একের পর এক পুকুর ভরাটের কাজ চালিয়েছেন। তবে এ সময়ে পুকুর ভরাট বন্ধে মামলা হয়েছে মাত্র ৫টি। আরডিএ দুটি ও পরিবেশ অধিদফতর তিনটি মামলা করেছে। আরডিএ এবং সিটি করপোরেশনের দেওয়া তথ্য মতে, ১৯৬১ সালে রাজশাহী নগরীতে ছোট-বড় পুকুর, দিঘি ও জলাশয় ছিল ৪ হাজার ২৮৩টি। আর এখন এ সংখ্যা মাত্র ২১৪টি। এ অবস্থায় হেরিটেজ রাজশাহী নামের একটি সংগঠনের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ সালের ১৩ ডিসেম্বর উচ্চ আদালত রাজশাহী নগরীর সব জলাশয়, পুকুর, ডোবা ও খাল ভরাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তা সত্ত্বেও নগরীতে থেমে নেই পুকুর ভরাট। বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের জরিপ থেকে জানা গেছে, ২০১৪ সালেও নগরীর ৩৭টি মৌজায় ১ হাজার ৫০টি পুকুরের অস্তিত্ব ছিল। এর মধ্যে ৪৮টি পুকুর ছিল খাসজমিতে। ব্যক্তিমালিকানায় থাকা পুকুরগুলোর পাশাপাশি খাসজমির এসব পুকুরও ভরাট হচ্ছে অবলীলায়। ভূমি অফিসের তথ্য মতে, ৪৮টি খাস পুকুরের মধ্যে ৯টি পুকুর ইজারা নিয়ে প্রভাবশালীরা ভরাট করে নেয়। এ ছাড়া আরও ৮টি পুকুর ভরাট করা হয়েছে ইজারা ছাড়াই ক্ষমতার দাপটে। বাকিগুলোও ভরাটের প্রক্রিয়ায়। বর্তমানে নগরীর শিরোইল মঠপুকুর, সাগরপাড়া কাইউম ডাক্তারের পুকুর, সুলতানাবাদ চতুর্ভুজ পুকুর, টিকাপাড়া খুলিপাড়া পুকুর, টিকাপাড়া গোরস্তানের পুকুর, সপুরা ছয়ঘাটি পুকুর, লক্ষ্মীপুর টিভি পুকুর, সোনাদীঘি পুকুর, বিসিকের মঠপুকুর, মেহেরচণ্ডির দিঘি, হড়গ্রাম মুন্সিপাড়া পুকুর, চাড়াল পুকুর, দড়িখড়বোনা পুকুর, কাদিরগঞ্জ পুকুর, পদ্মা আবাসিক এলাকার বড়পুকুর, ছোট বনগ্রাম পুকুর, শিরোইল কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় পুকুর ও সিপাইপাড়া পুকুরসহ হাতে গোনা কিছু পুকুর টিকে আছে। এদিকে আরডিএ কর্তৃপক্ষ নগরীর ২০টি পুকুর সংরক্ষণের ঘোষণা দিলেও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো বড় বড় পুকুর ভরাট করে সংস্থা দুটিই নির্মাণ করছে বহুতল ভবন। কয়েক বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে আরডিএ মার্কেট। জলাশয় ভরাট করে গড়ে তোলা হয়েছে নওদাপাড়া বাস টার্মিনাল। পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতারা বলছেন, রাজশাহীতে হাতে গোনা যেসব পুকুর টিকে আছে সেগুলো রক্ষা করতে হলে এখনই পুকুরগুলোকে সংরক্ষিত ঘোষণা করে সাইনবোর্ড ঝোলাতে হবে। তবে এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন রাজশাহী পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক নূর আলম। তিনি জানান, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই। কারণ, কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনা নিয়েই করতে হয়। রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সহকারী নগর পরিকল্পক রায়হেনুল ইসলাম রনি জানান, পুকুর ভরাট বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আরডিএ ও পরিবেশ অধিদফতরের মধ্যে অস্পষ্টতা আছে। এজন্য অনেক সময় কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া যায় না। তবে এখনো পর্যন্ত আরডিএ দুই পুকুর ভরাটকারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছে।




up-arrow