Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : বুধবার, ২২ জুন, ২০১৬ ০০:০০ টা আপডেট : ২২ জুন, ২০১৬ ০১:৫৩
ঘন চিনি ও কাপড় তৈরির রঙে পাউডার ড্রিংকস
ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জরিমানা
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে নিষিদ্ধ ঘন চিনি, স্যাকারিন ও কাপড় তৈরিতে ব্যবহৃত রঙের সঙ্গে সাইট্রিক এসিড মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে পাউডার ড্রিংকস। এ অপরাধে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো মীরহাজিরবাগের লাইফ ফুড প্রডাক্টস অ্যান্ড কনজিউমার প্রডাক্টস, নারিন্দায় ইয়ামিন ফুড প্রডাক্টস ও তানয়ীম সুইটস। গতকাল র‌্যাব-১০-এর সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালনা করেন সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, লাইফ ফুড প্রডাক্টসে ঘন চিনির সঙ্গে কাপড় তৈরির রং, স্যাকারিন ও সাইট্রিক এসিডের সংমিশ্রণে কোনো রসায়নবিদ, পুষ্টিবিদ ছাড়াই সাধারণ কর্মচারীরা তৈরি করেন টিনস নামের সফট ড্রিংকস পাউডার। বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়াই অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে নুডলস ও রিম ডিটারজেন্ট পাউডার। প্রতিষ্ঠানের গুদাম থেকে বিপুল পরিমাণ ঘন  চিনি জব্দ করা হয়। আমদানিনিষিদ্ধ এসব ঘন চিনি একটি চক্র মিথ্যা তথ্য দিয়ে দেশে আমদানি করে নিয়ে এসে এসব কারখানায় ব্যবহার করছে; যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ইয়ামিন ফুড প্রডাক্টসে নোংরা পরিবেশে খালি গায়ে ও ময়লা হাতে কর্মচারীরা তৈরি করছেন কোকাকোলা নুডলস। বিএসটিআইর লাইসেন্স ছাড়াই এর মানচিহ্ন প্যাকেটের গায়ে ব্যবহার করছে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক হাফিজুর রহমানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া, তানয়ীম সুইটসে মবিল তেল দিয়ে জিলাপি ভাজা এবং অপরিষ্কার অবস্থায় মিষ্টি ও কেক উৎপাদন করা হচ্ছে। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক আনোয়ার হোসেনকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

৯টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা : দুপুরে কাপ্তানবাজার এলাকায় ভেজালবিরোধী অভিযানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এপিবিএন-৫, ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিএসটিআইর যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা হক বলেন, বিএসটিআইর লাইসেন্স না থাকা, পণ্যে মূল্য তালিকা না থাকা, বিএসটিআই অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রি করার দায়ে মেসার্স হৃদম স্টোরের মালিক মোশারফ হোসেন, আল্লার দান স্টোরের মালিক সিরাজ উদ্দিন, নিউ সুলতান স্টোরের মালিক হাজী সুলতান, জাকির স্টোরের মালিক জাকির হোসেন, আল কাদের স্টোরের মালিক আবদুল কাদের ঢালী, সুলতান স্টোরের মালিক সুলতান আহম্মেদ, তুহিন স্টোরের মালিক সুলতান আহম্মেদ, সুমন স্টোরের মালিক শাহজাহান, নেয়ামুল স্টোরের মালিক জুয়েল মিয়াকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

১১টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা : বিভিন্ন এলাকায় ভেজালবিরোধী অভিযানে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এপিবিএন-১ ও বিএসটিআইর যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এপিবিএন সদর দফতরের এএসপি (মিডিয়া) আয়নাল হক বলেন, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দ্রব্য ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও পরিবেশন, এমআরপি না থাকায় এবং ওজনে কম, বিএসটিআই অনুমোদনহীন পণ্য বিক্রির দায়ে কলাবাগানের জান্নাত গোস্ত বিপণি; শেরেবাংলানগরের সততা গোস্ত বিপণি, ঘরোয়া রেস্টুরেন্ট ও প্রিন্স রেস্তোরাঁ; বাড্ডায় বিক্রমপুর মিষ্টান্ন ভাণ্ডার; ভাটারায় সাদিয়া রেস্টুরেন্ট; বনানীতে ফুলস ডিনার; গুলশানে ফিউশন ক্যাফে; খিলগাঁওয়ে পলাশ বেকারি, চমক সুইট অ্যান্ড বেকারি ও মুক্তা বিরিয়ানি হাউসকে ওই টাকা জরিমানা করা হয়।




up-arrow