Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : রবিবার, ৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৩ জুলাই, ২০১৬ ০২:৫৬
ভিড় কমার সুযোগে ‘ঢাকাইয়া শপিং’
মোস্তফা মতিহার

শেষের পথে রমজান, প্রায় সমাগত ঈদ। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেছে নয় দিনের সরকারি ছুটি। বেশির ভাগ মানুষ চলে গেছেন রাজধানীর বাইরে। ভিড় কমেছে শপিং সেন্টারগুলোতে। আর এমন সুযোগেরই অপেক্ষায় থাকেন ঢাকার (ঢাকাইয়া) বাসিন্দারা। ভিড় কমলেই তারা ভিড় জমান শপিং সেন্টারগুলোতে। এখন চলছে শেষ বেলার সেই শপিং।

প্রকৃতপক্ষে কম ভিড়ে কেনাকাটা করার সুবিধা বেশি আর ভোগান্তি কম বলে ঈদের দুই-তিন দিন আগের সময়কে বেছে নেন রাজধানীতে থাকা মানুষরা। কম ভিড়ে ঈদের শপিংয়ের সুযোগ অন্যান্য বছর ঈদের দুই-এক দিন আগে এলেও এ বছর নয় দিনের সরকারি ছুটির কারণে নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গতকাল থেকে যারা শপিংয়ের জন্য এ মার্কেট থেকে ওই মার্কেট, এই দোকান থেকে ওই দোকানে ছোটাছুটি করেছেন তাদের বেশির ভাগই ঈদ করবেন ঢাকায়। বসুন্ধরা সিটি, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, নিউ মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, রাজধানী সুপার মার্কেট, কর্ণফুলী সুপার মার্কেট, টুইন টাওয়ার, পলওয়েল, সিটি হার্ট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট, হকার্স মার্কেট, বঙ্গবাজার মার্কেট, মিরপুরের বেনারশি পল্লী, শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও উত্তরার অভিজাত শপিং কমপ্লেক্সগুলোতে গতকাল যারা ঈদের শপিং শুরু করেছেন তাদের ৯০ ভাগই এবার ঢাকা ছাড়ছেন না। বিভিন্ন মার্কেটের বেশ কয়েকটি দোকানের বিক্রয়কর্মীরা জানান, গতকাল পর্যন্ত রাজধানীর এক-তৃতীয়াংশ বাসিন্দা শপিং শুরু করেছেন। ঢাকাইয়ারা দেরিতে শুরু করলে শেষও করেন দেরিতে। কারণ চাঁদরাত পর্যন্ত কেনাকাটা না করলে ঢাকাইয়াদের শপিংয়ে তৃপ্তি মেটে না। ভোজনরসিক ঢাকাইয়ারা অতিমাত্রায় আমোদপ্রিয় হওয়াতে তারা ইফতারের পরের সময়টাকেই শপিংয়ের জন্য বেছে নেন এবং প্রায় গভীর রাত পর্যন্ত কেনাকাটা করেন। দোকানিদের মতে, ঢাকাইয়ারা রীতিমতো শপিং উপভোগ করে থাকেন। বিভিন্ন ধরনের মজা ও হৈ-হুল্লোড়ের মধ্য দিয়ে তারা শপিংকে আরও বেশি উপভোগ্য করে তোলেন।

বেশিরভাগ মার্কেট ঘুরে যে চিত্র পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায়, বরাবরের মতো এবারের ঈদেও ঢাকাইয়া তরুণীদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে ইন্ডিয়ান পোশাক। বাজিরাও মাস্তানী থেকে শুরু সিল্কি, সারারা, গাউন, পরী, নিরজা, রানী, বহুত কিয়া সালমান ইত্যাদি পোশাকের নামেই পাগলপ্রায় তরুণীরা। আর তরুণরা প্রাধান্য দিচ্ছেন টি-শার্ট ও জিন্স প্যান্ট আর বাধ্যতামূলকভাবে পাঞ্জাবি। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, জুয়েলারি ও কসমেটিকসের দোকানেও ভিড় করছেন ঢাকাইয়া তরুণীরা। আর পছন্দের পোশাক ও জুতা কেনার পর তরুণরা ভিড় করছেন আতর, টুপি, তসবিহর দোকানে।   জানা গেছে, আনন্দ আর উৎসব উদযাপনে ঢাকাইয়াদের সবকিছুই নতুন ও বাহারি রঙের হওয়া চাই। রসনা বিলাসের পাশাপাশি আনন্দ-ফুর্তিকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন বলে শেষ দিকের কম ভিড়ে সবচেয়ে ফ্যাশনেবল পোশাকটি কেনার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠেন ঢাকাইয়ারা। যার কারণে রোজার এই শেষ সময়টাতে রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে এখন ঢাকাইয়াদের বিচরণই বেশি।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow