Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ৫ জুলাই, ২০১৬ ০০:২৩
ঈদে জলাবদ্ধতার শঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
ঈদে জলাবদ্ধতার শঙ্কা

চট্টগ্রামের ঈদ বাজারে এখন ক্রেতাদের দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে বৃষ্টি। কখনো মুষলধারে, কখনো থেমে থেমে, আবার কখনো হালকাভাবে। গত দুই দিন ধরে দেখা  মেলেনি সূর্যের। ফলে সড়ক-ফুটপাথ এখন কাদা ও আবর্জনায় একাকার। টানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে নগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও আছে। এতে নগরীর নিম্নাঞ্চলের মানুষকে ঈদ করতে হবে জলাবদ্ধতা নিয়ে। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৫৩ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। দুপুর ১২টায় আগের ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয় ১৬৭ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মুশফিকুর রহমান বলেন, আগামী কয়েক দিন থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে। এমনকি ঈদের দিনও বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

জানা যায়, নগরীতে এমন অনেক নিম্নাঞ্চল আছে যেখানে বৃষ্টি হলেই পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার এমন কিছু ওয়ার্ড আছে যেখানে নিয়মিতই জোয়ারের পানি উঠে জলাবদ্ধতা হয়। এ কারণে নিম্নাঞ্চল ও জোয়ারের পানি উঠে এমন ওয়ার্ডের মানুষদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। সরেজমিন দেখা যায়, গত কয়েক দিনের বর্ষণে পানি উঠে হালিশহরের শান্তিবাগ, মধ্যম হালিশহর সাইটপাড়া, হালিশহর হাউজিং এস্টেট, নিমতলা, পোর্ট মার্কেট, আগ্রাবাদ কমার্স কলেজ সড়ক, আগ্রাবাদ ছোটপুল ব্রিকফিল্ড এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে। তা ছাড়া শুলকবহর, বৃহত্তর বাকলিয়া, ষোলশহর, মুরাদপুর, বাদুরতলা, বহদ্দারহাট, মুরাদপুরসহ আশপাশের এলাকায়ও পানি উঠে। অন্যদিকে নগরীর ৩৮ নম্বর দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ডের অধিকাংশ মানুষ গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ছিল পানিবন্দী। আগ্রাবাদ ছোটপুল এলাকার বাসিন্দা একেএম আজাদ বলেন, ঘরে পানি উঠেছে। কখন এই পানি নামে ঠিক নেই, অথচ একদিন পরেই ঈদ।

চসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) সুদীপ বসাক বলেন, টানা বর্ষণে নগরীর কিছু নিচু এলাকায় পানি উঠে। তবে তা আবার দ্রুত নেমেও যায়। পানি নেমে যাওয়ার মতো প্রয়োজনীয় কাজ-নগরীর খাল, নালা-নর্দমা, ড্রেনের সংস্কার ও মাটি খনন করা হয়েছে। তাই পানি উঠলেও তা স্থায়ী থাকবে না।

চসিকের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নগরীতে আছে ১৪৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ১৭টি বড় খাল। এসব খালের শাখা-প্রশাখা আছে আরও অন্তত ১৭টি। তা ছাড়া নালা-নর্দমা আছে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার। প্রতি বছরই জলাবদ্ধতা দূর করতে নগরের খাল ও নালা-নর্দমা সংস্কার এবং মাটি খনন করা হয়। কিন্তু তারপরও নগরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।

এদিকে বর্ষণের কারণে নগরীর মার্কেটগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা অতীতের তুলনায় অনেক কমেছে। নিউমার্কেট, রিয়াজুদ্দিন বাজার, হকার মার্কেটসহ নগরীর অভিজাত মার্কেটগুলোতে ঈদের আগের দিনের উপচে পড়া সেই ভিড় নেই।

up-arrow