Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২১ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৩ জুলাই, ২০১৬ ২৩:১৬
অপরাধীদের আস্তানা বস্তি ডাটাবেজ করছে পুলিশ
পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে এই উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
অপরাধীদের আস্তানা বস্তি ডাটাবেজ করছে পুলিশ

সিলেট নগরীতে রয়েছে প্রায় ২০০ বস্তি। এসব বস্তিতে বাস করেন দেড় লক্ষাধিক মানুষ।

এসব বস্তির দিকে খুব একটা নজর দেওয়া সম্ভব হয় না পুলিশ প্রশাসনের। ফলে দিন দিন এসব বস্তি পরিণত হয়েছে অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানায়। নগরীর অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে এবার বস্তিগুলোর ডাটাবেজ তৈরি করতে যাচ্ছে সিলেট মহানগর পুলিশ। ডাটাবেজ তৈরি হলে অপরাধীরা কোনো বস্তিতে আত্মগোপন করে থাকতে পারবে না বলে ধারণা পুলিশের।

সিলেট মহানগরীর মাছিমপুর, সাদাটিকর, তেররতন, শিবগঞ্জ, সোনারপাড়া, লাকড়িপাড়া, সেনপাড়া, আগপাড়া, যতরপুর, ছড়ারপাড়, মুন্সিপাড়া, শাহী ঈদগাহ, বাদামবাগিচা, চৌকিদেখি, খাসদবীর, বড়বাজার, রায়নগর, মিরাপাড়া, সুবিদবাজার, খুলিয়াপাড়া, পীরমহল্লা, ঘাসিটুলা, কুয়ারপাড়সহ বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক বস্তি রয়েছে। নগরীর নিম্নবিত্ত মানুষ এবং চিহ্নিত ও ভাসমান অপরাধীরা বসবাস করে থাকে এসব বস্তিতে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিলেট নগরীতে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ যত অপরাধ সংঘটিত হয় তার সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগই বস্তিতে থাকেন। সিলেটের বাইরের অপরাধীরাও বস্তিতে এসে অবস্থান করে। অপরাধ সংঘটিত করে আবার ফিরে যায়।

বস্তি ও বস্তিতে বসবাসকারীদের সম্পর্কে কোনো তথ্য না থাকায় পুলিশও এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যেতে পারছে না।

অবশেষে এসব বস্তি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে মহানগর পুলিশ ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই ডাটাবেজে সিলেটের সব বস্তিতে বসবাসরত বাসিন্দার নাম, পরিচয়, বাড়ি, জন্ম তারিখ, ছবি সবকিছুই সংরক্ষণ করা হবে। বস্তিতে নতুন আগমনকারী ব্যক্তি সম্পর্কে পুলিশের কাছে তথ্য দিতে হবে বস্তি মালিককে। পুলিশ আগত সেই ব্যক্তির তথ্য তার নিজ এলাকার সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ দিয়ে যাচাই করবে। এতে করে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা আছে কিনা, দেশবিরোধী কোনো কাজে জড়িত কিনা, কিংবা সেই ব্যক্তি ভুল তথ্য দিয়েছেন কিনা এসব বিষয় স্পষ্ট হবে। বস্তি ছেড়ে কেউ চলে গেলেও বস্তি মালিককে সেই ব্যক্তির বিষয়ে থানা পুলিশকে অবগত করতে হবে।

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) রহমত উল্লাহ বলেন, বেশির ভাগ অপরাধী বস্তিতে আত্মগোপন করে থাকে। ডাটাবেজ হলে বস্তির বাসিন্দাদের সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। বস্তি ছাড়াও সিলেট নগরীর বাসা-বাড়িতে বসবাসরত ভাড়াটেদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদেরও ডাটাবেজের আওতায় আনা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow