Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৪ জুলাই, ২০১৬ ০২:৩৯
ওমানে বাংলাদেশিদের দাসত্বের জীবনযাপন
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন
প্রতিদিন ডেস্ক

ওমানে অন্তত ১ লাখ ৩০ হাজার বিদেশি গৃহকর্মী দাসত্বের জীবনযাপন করছেন। এর বেশির ভাগই বাংলাদেশি। এসব গৃহকর্মীর নির্যাতনের খবর প্রকাশ হচ্ছে না বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। গতকাল সংস্থাটি ‘আমাকে বিক্রি করা হয়েছিল : ওমানে বিদেশি গৃহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও নির্যাতন’ শিরোনামে ৬৮ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশে শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় নির্দিষ্ট আইন না থাকায় শ্রমিকরা নিয়োগকর্তাদের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে বিদেশে গৃহকর্মী হতে বাধ্য হচ্ছেন। এরপর তাদের অনেকেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এই প্রতিবেদন তৈরির আগে ওমানে কাজ করা ৫৯ জন বিদেশি শ্রমিকের সঙ্গে কথা বলেছে এইচআরডব্লিউ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমানে কাজ করা গৃহকর্মীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, তাদের জোরপূর্বক অথবা অপহরণ করে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে বেশির ভাগকেই সংযুক্ত আরব আমিরাতসংলগ্ন সীমান্ত থেকে অপহরণ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করা এইচআরডব্লিউর গবেষক রত্না বেগম বলেন, ওমানে অভিবাসী গৃহকর্মীদের ভালোমন্দ তাদের গৃহকর্তাদের দয়া-দাক্ষিণ্যের ওপর নির্ভর করে। গৃহকর্মীদের কোনো বেতন, বিশ্রাম ও খাদ্য না দিয়েই জোরপূর্বক কাজ করান গৃহকর্তারা। আর কোনো কর্মী পালাতে চাইলে তাদের ধরে নিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়। তবে এসব কারণে খুব কমই গৃহকর্তাদের শাস্তি বা জরিমানা করা হয়।

গৃহকর্মীদের অনেকে জানান, ওমানের গৃহকর্তারা গৃহকর্মীদের কোনো মাসেই তাদের পুরো বেতন দেন না। বরং কোনো বিরতি বা ছুটি না দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করতে বাধ্য করেন। তাদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য দেওয়া হয় না। এ ছাড়া তাদের থাকার জায়গার অবস্থাও ভালো না। এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমানে কাজ করা কোনো কোনো গৃহকর্মী জানিয়েছেন, তাদের গৃহকর্তারা শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। আবার কেউ কেউ জানিয়েছেন, গৃহকর্তারা তাদের ওপর যৌন নির্যাতনও করেন। বাংলাদেশের নাগরিক আসমা এইচআরডব্লিউকে জানিয়েছেন, তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তার নিয়োগ প্রতিষ্ঠানের লোকজন পাসপোর্ট ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ওমানে বিক্রি করে দিয়েছিল। ১৫ সদস্যের পরিবারে তাকে টানা ২১ ঘণ্টা কাজ করতে হতো। তাকে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হতো না। পর্যাপ্ত খাদ্য দেওয়া হতো না। কথায় কথায় গালি দেওয়া হতো। মাঝে মাঝে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হতেন।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow