Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭

ঢাকা, বুধবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৭
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ১৭ জুলাই, ২০১৬ ২৩:০৩
জঙ্গি শঙ্কা শপিং মলে
বিপণিবিতানে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা
মাহবুব মমতাজী

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন শপিং মলের ব্যবসায়ীরা। জঙ্গি হামলার আশঙ্কার পাশাপাশি তারা বলেছেন, আগের তুলনায় ক্রেতা অনেক কম।

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় এরই মধ্যে বড় বড় শপিং মলসহ রাজধানীর বহু বিপণিবিতানে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তাবলয়। তবুও আতঙ্কিত নগরবাসীর শপিং মলে আনা-গোনা কমে যাওয়ায় ভাটা পড়েছে বেচাবিক্রিতে— এমন অভিযোগ ব্যবসায়ীদের। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিপণিবিতানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গুলশান, ওয়ারী, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি,  বনানীসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক এবং আবাসিক এলাকার ভবন ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে আগের চেয়ে বাড়তি নিরাপত্তা।

জানা গেছে, জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় শপিং মলগুলোতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে দোকানদার ও ক্রেতাদের চলাচল। প্রত্যেকের দেহ নিখুঁতভাবে তল্লাশি করে প্রবেশ করানো হচ্ছে। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত কোনো কোনো মার্কেটের দোকান খুলে রাখায় নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর মার্কেটে ক্রেতা প্রবেশে আরোপ করা হয়েছে কড়াকড়ি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই চলমান পরিস্থিতিতে সন্ধ্যার পরপরই মার্কেটগুলোতে ক্রেতাশূন্য পরিস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কেটের দোকানিরা। মার্কেটের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে। তল্লাশি ছাড়া কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভিতরে-বাইরেও নানা রকম নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছে। যেসব শপিং মলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে- তার মধ্যে রয়েছে গুলশান-১ এর ইউনিকর্ন, নাভানা, শপার্স ওয়ার্ল্ড, জারা ফ্যাশন, গুলশান-২ এর প্লাজা সেন্ট্রাল। শফিক নামে এক দোকান কর্মচারী জানান, এই অভিজাত এলাকায় মূলত বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত মার্কেটগুলো জমে উঠত। এখন পরিস্থিতি পুরো পরিবর্তন হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় এখন শপিং করতে মানুষ তেমন আসছে না। তাই বিক্রি অনেক কমে গেছে। এ ছাড়াও ধানমন্ডির এ আর এ সেন্টার, জেনেটিক প্লাজা, অরচার্ড পয়েন্ট ও রাপা প্লাজায় আগের চেয়ে কমেছে ক্রেতার আনাগোনা। এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকা, আল্পনা, শেলটেক সিয়েরা শপিং কমপ্লেক্স, মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার এবং হাতিরপুলের ইস্টার্ন প্লাজা, নাহার প্লাজা ও মোতালিব প্লাজায়ও নেই আগের মতো পরিবেশ। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি বছর ঈদের ছুটি শেষে সপ্তাহখানেকের মধ্যে মার্কেটগুলোর পরিবেশ-পরিস্থিতি অন্যান্য দিনের মতো জমজমাট হয়ে যায়। কিন্তু গুলশান ও শোলাকিয়া ঘটনার পর এবার পাল্টে গেছে রাজধানীর বেশির ভাগ শপিং মলের দৃশ্যপট। ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ঈদের আগ থেকেই সব বিপণিবিতানে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। মার্কেটগুলোর সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow