Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২২ জুলাই, ২০১৬ ২৩:৪৫
কাউন্সিলর পেলেন পশুর হাট ইজারা
সিটি করপোরেশন আইন লঙ্ঘন
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিটি করপোরেশন আইন, ২০০৯ অনুযায়ী কোনো জনপ্রতিনিধির সিটি করপোরেশনের সঙ্গে ব্যবসা বা ঠিকাদারি করার সুযোগ না থাকলেও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একটি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা পাচ্ছেন করপোরেশনের এক কাউন্সিলর। পবিত্র ঈদুল আজহায় রাজধানীতে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার প্রথম পর্যায়ের ১২টি হাটের দরপত্র বাক্স খুলেছে গতকাল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। দরপত্র প্রকাশের পর ইজারায় এক কাউন্সিলরের দরপত্র বৈধ বিবেচিত হওয়ায় তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ডিএসসিসির ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ দুটি হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা মনোনীত হয়েছেন। ব্রাদার্স ইউনিয়ন বালুর মাঠ হাটের সর্বোচ্চ ৭০ লাখ টাকার দর দিয়েছেন কাউন্সিলর সাঈদ। এখানে চারটি দরপত্র জমা পড়েছে। এ ছাড়া ১২টি হাটের বিপরীতে মাত্র ৪২টি আবেদন জমা পড়ায় দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার ভিত্তিতে অস্থায়ী পশুর হাটের দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মিলেছে। ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, পর্যাপ্ত দরপত্র ফরম বিক্রি করা হয়েছে। জমা না পড়লে তাদের কিছু করার নেই। আর বাইরে সমঝোতা বা অন্য কিছু হয়ে থাকলে সেখানে সিটি করপোরেশনের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

দরপত্র জমাদানকারীদের প্রশ্ন, সামান্য ভুলত্রুটির কারণে তিনটি দরপত্র বাতিল করলেও আইন লঙ্ঘন করে দরপত্র জমাদানকারী কাউন্সিলরের আবেদন কেন বাতিল করা হলো না? এ নিয়ে ডিএসসিসি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছেন তারা।

এ ব্যাপারে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা  খান মোহাম্মদ বিলাল জানান, ‘কোনো কাউন্সিলরের ডিএসসিসির সঙ্গে ব্যবসায় জড়ানো উচিত নয়। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ’ আর দরপত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কোনো খবর তিনি জানেন না বলে জানান। এ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘কাউন্সিলর ব্যবসায় যুক্ত হতে পারবেন না, এমন নির্দেশনা দরপত্র আহ্বান করার সময় উল্লেখ ছিল না। যে কারণে আমি দরপত্র জমা দিয়েছি। যদি এমন নির্দেশনা থাকে তাহলে সিটি করপোরেশন অন্য দ্বিতীয় দরদাতাকে দিয়ে দিতে পারে। ’ সূত্রমতে, এবার হাজারীবাগের জিগাতলা পশুর হাটের বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছে তিনটি। এ হাটের ৬৬ লাখ ১০ হাজার টাকার সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন মনিরুল হক বাবু। রহমতগঞ্জ খেলার মাঠের বিপরীতে জমা পড়া তিনটি দরপত্রের মধ্যে ৯ লাখ ১৫ হাজার টাকার সর্বোচ্চ দর দিয়েছে রহমতগঞ্জ মুসলিম সোসাইটি। মেরাদিয়া হাটের বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছে দুটি। এ হাটের সর্বোচ্চ ৫১ লাখ ৩০ হাজার ৫০০ টাকা দর দিয়েছেন হাজী মোহাম্মদ শাহ আলম। সাদেক হোসেন খোকা খেলার মাঠে আবেদন জমা পড়েছে তিনটি। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দর উঠেছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৫ হাজার টাকা। সর্বোচ্চ দরদাতা হলেন ফরহাদ ভূঁইয়া বাবু।

শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠে দরপত্র জমা পড়েছে তিনটি। এ হাটের ৭ লাখ ২০ হাজার টাকার সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন হাজী আবদুল লতিফ। ধুপখোলা হাটের বিপরীতে ৯৩ লাখ টাকার সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন এফ এম মোর্শেদ আহমেদ চৌধুরী। এ হাটের বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছিল পাঁচটি। পোস্তগোলা শ্মশানঘাটে দরপত্র জমা পড়েছে চারটি। এ হাটের সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকার দর দিয়েছেন আসাদুজ্জামান রুবেল। লালবাগের দেলোয়ার হোসেন খেলার মাঠের বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছে দুটি। এ হাটের ১ কোটি ৪ লাখ টাকার সর্বোচ্চ দর দিয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফ। কামরাঙ্গীরচর হাটের সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার দর দিয়েছেন হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকার। এ হাটের বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছিল দুটি। যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার হাটের বিপরীতে দরপত্র জমা পড়েছিল চারটি। এ হাটের সর্বোচ্চ দরদাতা হলেন মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি দর দিয়েছেন ২৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত হাটের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে চারটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার দর দিয়েছেন এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow