Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

ঢাকা, শুক্রবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭
প্রকাশ : শনিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০ টা আপলোড : ২৩ জুলাই, ২০১৬ ০৩:৫৯
তিন মাস আগে দুবাই থেকে ফেরেন রুমা
গুলশান হামলা
নরসিংদী প্রতিনিধি
তিন মাস আগে দুবাই থেকে ফেরেন রুমা

গুলশান হামলায় জড়িত সন্দেহে আটক রুমা আক্তার (৩৫) তিন মাস আগে দুবাই থেকে ফিরেছেন বলে পরিবার দাবি করেছে। রুমা আক্তার নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুরের সুলতানপুরের সাহাবুদ্দীন আহমেদ ওরফে বুদুর মেয়ে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের চরখুপি গ্রামে বোনের বাড়ি থেকে রুমাকে পুলিশ আটক করেছে। তার পরিবারের দাবি সে মানসিক ভারসাম্যহীন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে তার পরিবার। তার মুক্তিযোদ্ধা পিতা বলছেন, প্রকৃত অপরাধী হলে তাকে যথোপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হোক।

শিবপুর থানার ওসি খোন্দকার ইমাম হোসেন বলেন, রুমা নামে এক নারীকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করেছে। তবে কী কারণে তাকে আটক করা হয় সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তার পরিবারসহ স্থানীয়রা কেউ জানে না তাকে কেন আটক করা হয়েছে। রুমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা শাহাবদ্দিন আহমেদ বুদু জানান, তার তিন মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে রুমা সবার ছোট। রুমার দুবার বিয়ে হয়েছে। প্রথম বিয়ে হয় শিবপুরের সিএন্ডবি গ্রামের রাসেল মিয়ার সঙ্গে। ওই সংসারে রুমার একটি ছেলে (১০) রয়েছে। পরে বিয়ে হয় নোয়াখালীর এক ছেলের সঙ্গে। দ্বিতীয় স্বামীর আগের স্ত্রী-সন্তান থাকায় তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। ছয় মাস আগে চাকরির সুবাদে রুমা দুবাই চলে যায়। সেখানে তিন মাস থেকে ফিরে আসে। এরপর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে। দেশে ফেরার পর সে বিভিন্ন লোকের সঙ্গে মোবাইলে কথাবার্তা বলত এবং পাগলের মতো চলাফেরা করত। ভিক্ষাবৃত্তিসহ মানুষের কাছ থেকে একশ/দুশ করে টাকা চেয়ে নিত। গুলশান ঘটনার দুদিন পর রুমা চরখুপি গ্রামে ভগ্নিপতি চা বিক্রেতা তারা মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোয়েন্দা পুলিশ তাকে আটক করে। রুমার মেজবোন সাবিনা আক্তার সাথী বলেন, রুমা ভিক্ষা করত, বিভিন্ন বাসায় কাজ করত। তার মানসিক সমস্যা ছিল। তাকে ডাক্তারও দেখানো হয়েছিল। সে ৩/৪ মাসের ওষুধ একসঙ্গে খেয়ে ফেলত এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করত। গুলশান হামলার পর র‌্যাব একটি সিসি ক্যামেরার ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছে। ওই ভিডিওচিত্রে সন্দেহভাজন চারজনকে শনাক্তের কথা র‌্যাব জানিয়েছিল, যার মধ্যে ব্যাগ কাঁধে সালোয়ার-কামিজ পরা এক নারীকেও দেখা যায়। আটক রুমা আক্তার ভিডিও ফুটেজের সেই নারী। বিষয়টি স্বীকার করলেও রুমার বোন সাবিনা আক্তার দাবি করেন, রুমা জঙ্গি নয়। স্থানীয় গ্রামবাসী জানায়, স্বামীর সংসার হারানোর পর থেকে রুমা অস্বাভাবিক আচরণ করে। ইতিমধ্যে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow